image

আপনার টিভি কি চোখের জন্য নিরাপদ

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক

ছোটবেলায় টিভি দেখা মানেই ছিল সন্ধ্যায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে প্রিয় নাটক বা অনুষ্ঠান উপভোগ করা। নির্দিষ্ট সময় শেষে রাতের খাবার ও অন্যান্য কাজ সেরে টিভি বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিরাচরিত অভ্যাস বদলে গেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতায় বিঞ্জ-ওয়াচিং এখন নতুন স্বাভাবিকতা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে খেলা দেখা কিংবা গেম খেলার অভ্যাস। ফলে টিভি বন্ধ করার তাড়া এখন আর খুব একটা থাকে না- দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী এটি চলতেই থাকে।

তবে টিভি দেখার এই বদলে যাওয়া অভ্যাসের মাঝেও কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার চোখের ওপর এর প্রভাব কী? দীর্ঘ সময় ধরে বড় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চোখে ব্যথা, শুষ্কতা, এমনকি তীব্র মাথাব্যথাও দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আমরা এসব সমস্যার জন্য মানসিক চাপকে দায়ী করি, অথচ মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। বিশেষ করে এইচডিআর কনটেন্ট দেখার সময় এক মুহূর্তে সম্পূর্ণ অন্ধকার দৃশ্য, পরের মুহূর্তেই তীব্র উজ্জ্বল দৃশ্য, এই দ্রুত পরিবর্তন চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

আমরা অনেকেই অন্ধকার বা কম আলোযুক্ত ঘরে বেশি ব্রাইটনেসে টিভি দেখি, যা সমস্যা আরও বাড়ায়। টিভির স্ক্রিনে জানালা বা ঘরের আলোর প্রতিফলনও চোখে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডিজিটাল ডিসপ্লে থেকে নির্গত নীল আলো, যা বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় দেখার পর অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে। টিভি বন্ধ করার পরও চোখে ক্লান্তি রয়ে যেতে পারে।

সময়ের সঙ্গে ডিসপ্লে প্রযুক্তিও উন্নত হয়েছে। আধুনিক কিউএলইডি টিভিগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে দীর্ঘ সময় দেখলেও অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস প্রযুক্তি ঘরের আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে। ফলে অন্ধকার ঘরে অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না।

ডায়নামিক কনট্রাস্ট কন্ট্রোল হঠাৎ অন্ধকার থেকে উজ্জ্বল দৃশ্যে পরিবর্তনকে তুুলনামূলক মসৃণ করে, যাতে চোখের ওপর চাপ কম পড়ে। ফ্লিকার-ফ্রি ব্যাকলাইটিং সূক্ষ্ম ফ্লিকারিং কমায়, যা অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথার একটি কারণ। পাশাপাশি ১০০ শতাংশ কালার ভলিউম নিশ্চিত করলে উজ্জ্বলতার তারতম্যের মধ্যেও রঙ থাকে সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক, ফ্যাকাশে বা অতিরিক্ত কড়া নয়।

তবে টিভির নামের সঙ্গে ‘কিউএলইডি’ ট্যাগ থাকলেই যে সব সুবিধা মিলবে, তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত কোয়ান্টাম ডট স্তরই থাকে না। আবার কোথাও সাদা এলইডি ব্যাকলাইট ব্যবহৃত হয়, যা রঙ ও কনট্রাস্টের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে রাখে না। ফলে আকর্ষণীয় স্পেসিফিকেশন দেখে বেশি দাম দিয়ে টিভি কিনলেও অনেকেই প্রকৃত অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে সার্টিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ। স্বীকৃত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, উল্লিখিত প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলো বাস্তবেও কার্যকর কি না। উদাহরণ হিসেবে স্যামসাং রিয়েল কিউএলইডি প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য। এই প্রযুক্তিটি আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত, যা মূলত ব্যবহারকারীর চোখের সুরক্ষা, রঙের নির্ভুলতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে। একসময় টিভি কেনা মানেই ছিল সবচেয়ে বড় স্ক্রিনটি সবচেয়ে কম দামে পাওয়া। এখন বাস্তবতা ভিন্ন। যখন একটি টিভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী, তখন শুধু আকার নয়- দেখার অভিজ্ঞতা, আরাম ও চোখের নিরাপত্তাই হয়ে ওঠে আসল বিবেচ্য বিষয়।

‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ : আরও খবর

সম্প্রতি