সারাদেশে গণমাধ্যমকর্মীরা হামলা, ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি সেন্সরশিপ ও হুমকির মুখে পড়ছেন যেখানে কার্যকর সুরক্ষা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। এসকল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সম্প্রতি ‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ সদস্যদের সঙ্গে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি অ্যাডভোকেসী প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ এই কর্মশালার আয়োজন করে। আলোচনায় সদস্যরা সকল অংশীজনের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের প্রায়ই সামনের সারিতে থেকে কাজ করতে হয়—যা তাদের বাড়তি ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা ও আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।”
সভায় ভয়েসের উপ পরিচালক ম্শুাররাত মাহেরা বলেন, “সঠিক আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হচ্ছে। এই টিমের সদস্যদের নিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই—যা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও জানান, “পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ জার্নালিস্টস সেফটি ফান্ড (বিজেএসএফ) গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে কিউআরএস টিমের সদস্যরাই সহায়তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন।”
সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সোহরাব হোসেন, অধিকারকর্মী ডালিয়া চাকমা, সারাবান তহুরা, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ, শিক্ষাবিদ আফরোজা সোমা, আজিজুল পারভেজ, মাইনুল হাসান সোহেল ও প্রমুখ।