চিকিৎসায় বিঘ্ন, ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট কাটেনি। তার কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতিকে এখনও ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তার (খালেদা জিয়া) সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি কঠিন বলেও মনে করছেন চিকিৎসকরা।
খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে হাসপাতালেরর সামনে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। ভিড়ের কারণে তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এ জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
গত শুক্রবার রাতে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকাটাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। গতকাল শনিবারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট কাটেনি। বিশেষত কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাকে টানা চার দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
# ভিড় না করার অনুরোধ
গত কয়েকদিন ধরেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে হাসপাতালের সামনে এই ভিড় আরও বেশি দেখা যায়। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজনও হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন। এই ভিড়ের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিকে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধার ফল হিসেবে দেখছে দলটি। তবে ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াসহ হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সব শুভাকাক্সক্ষীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নেতাকর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি; তিনি এখনও একই জটিল অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনও কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।’ হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘœ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিকেল বোর্ডই দিচ্ছে।
গতকাল শনিবার খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফজলে এলাহী আকবর জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
# ভালোবাসা ও আবেগের টান
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি খালেদা জিয়া যাতে সুস্থ হয়ে যান, সেজন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
সিংড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমান হাসপাতালে দেখা করার সুযোগ পাননি। তিনি জানান, কেবল চিকিৎসকেরাই খালেদা জিয়ার কাছে যেতে পারছেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে আসছি আপডেটটা জানার জন্য। আসতে নিষেধ করা হলেও মন তো মানে না। মনের টানে, ভালোবাসা টানে এসেছি।’
টাঙ্গাইল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আসিফুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘বাইরে অপেক্ষা করতেছি, তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতেছি। শুনলাম, আজকে সকাল থেকে তিনি কথা বলতেছেন। শুনে খুব ভালো লাগল।’
৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ১৫ অক্টোবর তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেখানে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
চিকিৎসায় বিঘ্ন, ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট কাটেনি। তার কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতিকে এখনও ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তার (খালেদা জিয়া) সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি কঠিন বলেও মনে করছেন চিকিৎসকরা।
খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে হাসপাতালেরর সামনে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। ভিড়ের কারণে তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এ জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
গত শুক্রবার রাতে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকাটাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। গতকাল শনিবারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট কাটেনি। বিশেষত কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাকে টানা চার দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
# ভিড় না করার অনুরোধ
গত কয়েকদিন ধরেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে হাসপাতালের সামনে এই ভিড় আরও বেশি দেখা যায়। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজনও হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন। এই ভিড়ের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিকে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধার ফল হিসেবে দেখছে দলটি। তবে ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াসহ হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সব শুভাকাক্সক্ষীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নেতাকর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি; তিনি এখনও একই জটিল অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনও কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।’ হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘœ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিকেল বোর্ডই দিচ্ছে।
গতকাল শনিবার খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফজলে এলাহী আকবর জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
# ভালোবাসা ও আবেগের টান
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি খালেদা জিয়া যাতে সুস্থ হয়ে যান, সেজন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
সিংড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমান হাসপাতালে দেখা করার সুযোগ পাননি। তিনি জানান, কেবল চিকিৎসকেরাই খালেদা জিয়ার কাছে যেতে পারছেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে আসছি আপডেটটা জানার জন্য। আসতে নিষেধ করা হলেও মন তো মানে না। মনের টানে, ভালোবাসা টানে এসেছি।’
টাঙ্গাইল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আসিফুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘বাইরে অপেক্ষা করতেছি, তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতেছি। শুনলাম, আজকে সকাল থেকে তিনি কথা বলতেছেন। শুনে খুব ভালো লাগল।’
৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ১৫ অক্টোবর তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেখানে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।