পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতে পালিয়ে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে এ ধরনের কোনো অফিশিয়াল তথ্য নেই।
রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, তিনি মোটামুটি নিশ্চিত যে, ভারত আসাদুজ্জামান খান কামালকে শিগগিরই বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করবে। প্রেস সচিব ইঙ্গিত দেন, (প্রতর্পণ) শুরুটা হবে আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়ে, এরপর শেখ হাসিনা বা অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যর্পণ করবে ভারত।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামালের বিষয়ে অফিশিয়াল কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আমরা সবাই জানি, উনি ভারতে আছেন। কিন্তু লিখিতভাবে সেটা আমাদের কখনো জানানো হয়নি। তাকে দিয়ে যে প্রত্যর্পণ শুরু হবে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরেও শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত কোনো চিঠিরই উত্তর দেয়নি। দুয়েকটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সঙ্গে দুয়েকটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না। কারণ, বহুমাত্রিক সম্পর্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গেও আছে। তিনি বলেন, ‘তিস্তার পানি হোক, আর সীমান্ত হত্যা হোক- এগুলো পাশাপাশি থাকবে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়ার সঙ্গে। একটা তো আরেকটার ওপর নির্ভরশীল না। কাজেই স্বার্থগুলো থেকেই যাবে। আমাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কতদিন লাগবে জানি না। কিন্তু আমরা চাই যে, তাদেরকে ফেরত দেয়া হোক, যাতে সাজা কার্যকর করা যায়। কিন্তু এটার কারণে বাকি সব আটকে থাকবে, এটা আমি মনে করি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উষ্ণ সম্পর্ক ছিল ভারতের সঙ্গে। আপনারা কি এই কথা হলফ করে বলতে পারেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এতে খুব সন্তুষ্ট ছিল কিনা, যেই পর্যায়ে সম্পর্ক ছিল। আমার কাছে এবং আরও অনেকের কাছে মনে হয়েছে উষ্ণ সম্পর্ক দুটি সরকারের মধ্যে ছিল। জনগণের ভূমিকা সেখানে অনেক কম ছিল। অনেক অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন সরকার বিবেচনায় নেয়নি। তিস্তার পানি এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা এই ক্ষোভ বাংলাদেশের সবার ছিল। ভারতের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কের যে সরকার ছিল ১৫ বছর, তারা এই দুটোর একটিরও কি কোনো সমাধান করতে পেরেছে? অর্থাৎ এই বাহ্যিক উষ্ণতা কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, আমাদের স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছিল কিনা, হচ্ছিল না স্পষ্টতই। কাজেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল- এটা আমি বলতে চাই না। ভারতের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক ছিল- গভীর ছিল সরকারের।’
সীমান্ত হত্যার সমাধান দেখছিনা
সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই তারপরও গুলি করে মানুষ মারা হয়। পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোনো সীমান্তে এরকম নেই। এটার কোনো সমাধান আমি আপাতত দেখতে পাচ্ছি না। সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। আমরা নিন্দা করতে পারি, প্রতিবাদ করতে পারি, করে যাচ্ছি।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এমনকি আমাদের কর্মকর্তারাও একপর্যায়ে গিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন। অন রেকর্ড করেছে, এটা পত্রপত্রিকাতেই আছে। অপরাধ হয়েছে বলে ইত্যাদি ইত্যাদি অপরাধ হলে কোর্টে সোপর্দ হবে। কোর্ট তাকে শাস্তি দেবে। একজন বন্দুকধারীকে অভিযোগকারী, বিচারক আর হত্যাকারী- তিনটি পদে দিয়ে দিতে পারেন না। কিন্তু এটা হচ্ছে, আমরা নিন্দা করতে পারি। আপত্তি করতে পারি, করে যাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকলে আমাকে জানাবেন, আমি চেষ্টা করবো।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের তুলনায় অবনতি হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যেসব বিষয় ছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি পরবর্তী ১৫ বছরে। বলতে পারেন যে, ক্ষমা চায়নি, সম্পদ ভাগাভাগির ইস্যু আছে, এটা তো আগেও হয়নি, পরেও হয়নি। কিন্তু এই সময়টাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল- আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবো, অতিরিক্ত কোনো কিছু না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যদি বিকল্প একটি উৎস থাকে, সেটা তো মনে হয় আমাদের স্বার্থেই আসে। আমরা তো পাকিস্তান থেকে তুলা আনতে পারি, পেঁয়াজও এসেছে যখন ঘাটতি ছিল। এবার তো ঘাটতি নেই, কাজেই যখন সংকট থাকে, তখন একাধিক সোর্স থাকলে আমাদের জন্যই সুবিধা। সুতরাং আমি মনে করি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যদি ভালো হয়ে থাকে, ভালো হয়েছে বলে আমি মনে করি। ইচ্ছাকৃতভাবে যেটুকু খারাপ করে রাখা হয়েছিল সেইটুকু, অসাধারণ কোনো সম্পর্ক না। সেটা আমাদের স্বার্থে গেছে বলেই আমার বিশ্বাস।’
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতে পালিয়ে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে এ ধরনের কোনো অফিশিয়াল তথ্য নেই।
রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, তিনি মোটামুটি নিশ্চিত যে, ভারত আসাদুজ্জামান খান কামালকে শিগগিরই বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করবে। প্রেস সচিব ইঙ্গিত দেন, (প্রতর্পণ) শুরুটা হবে আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়ে, এরপর শেখ হাসিনা বা অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যর্পণ করবে ভারত।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামালের বিষয়ে অফিশিয়াল কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আমরা সবাই জানি, উনি ভারতে আছেন। কিন্তু লিখিতভাবে সেটা আমাদের কখনো জানানো হয়নি। তাকে দিয়ে যে প্রত্যর্পণ শুরু হবে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরেও শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত কোনো চিঠিরই উত্তর দেয়নি। দুয়েকটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সঙ্গে দুয়েকটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না। কারণ, বহুমাত্রিক সম্পর্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গেও আছে। তিনি বলেন, ‘তিস্তার পানি হোক, আর সীমান্ত হত্যা হোক- এগুলো পাশাপাশি থাকবে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়ার সঙ্গে। একটা তো আরেকটার ওপর নির্ভরশীল না। কাজেই স্বার্থগুলো থেকেই যাবে। আমাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কতদিন লাগবে জানি না। কিন্তু আমরা চাই যে, তাদেরকে ফেরত দেয়া হোক, যাতে সাজা কার্যকর করা যায়। কিন্তু এটার কারণে বাকি সব আটকে থাকবে, এটা আমি মনে করি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উষ্ণ সম্পর্ক ছিল ভারতের সঙ্গে। আপনারা কি এই কথা হলফ করে বলতে পারেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এতে খুব সন্তুষ্ট ছিল কিনা, যেই পর্যায়ে সম্পর্ক ছিল। আমার কাছে এবং আরও অনেকের কাছে মনে হয়েছে উষ্ণ সম্পর্ক দুটি সরকারের মধ্যে ছিল। জনগণের ভূমিকা সেখানে অনেক কম ছিল। অনেক অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন সরকার বিবেচনায় নেয়নি। তিস্তার পানি এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা এই ক্ষোভ বাংলাদেশের সবার ছিল। ভারতের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কের যে সরকার ছিল ১৫ বছর, তারা এই দুটোর একটিরও কি কোনো সমাধান করতে পেরেছে? অর্থাৎ এই বাহ্যিক উষ্ণতা কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, আমাদের স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছিল কিনা, হচ্ছিল না স্পষ্টতই। কাজেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল- এটা আমি বলতে চাই না। ভারতের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক ছিল- গভীর ছিল সরকারের।’
সীমান্ত হত্যার সমাধান দেখছিনা
সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই তারপরও গুলি করে মানুষ মারা হয়। পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোনো সীমান্তে এরকম নেই। এটার কোনো সমাধান আমি আপাতত দেখতে পাচ্ছি না। সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। আমরা নিন্দা করতে পারি, প্রতিবাদ করতে পারি, করে যাচ্ছি।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এমনকি আমাদের কর্মকর্তারাও একপর্যায়ে গিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন। অন রেকর্ড করেছে, এটা পত্রপত্রিকাতেই আছে। অপরাধ হয়েছে বলে ইত্যাদি ইত্যাদি অপরাধ হলে কোর্টে সোপর্দ হবে। কোর্ট তাকে শাস্তি দেবে। একজন বন্দুকধারীকে অভিযোগকারী, বিচারক আর হত্যাকারী- তিনটি পদে দিয়ে দিতে পারেন না। কিন্তু এটা হচ্ছে, আমরা নিন্দা করতে পারি। আপত্তি করতে পারি, করে যাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকলে আমাকে জানাবেন, আমি চেষ্টা করবো।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের তুলনায় অবনতি হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যেসব বিষয় ছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি পরবর্তী ১৫ বছরে। বলতে পারেন যে, ক্ষমা চায়নি, সম্পদ ভাগাভাগির ইস্যু আছে, এটা তো আগেও হয়নি, পরেও হয়নি। কিন্তু এই সময়টাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল- আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবো, অতিরিক্ত কোনো কিছু না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যদি বিকল্প একটি উৎস থাকে, সেটা তো মনে হয় আমাদের স্বার্থেই আসে। আমরা তো পাকিস্তান থেকে তুলা আনতে পারি, পেঁয়াজও এসেছে যখন ঘাটতি ছিল। এবার তো ঘাটতি নেই, কাজেই যখন সংকট থাকে, তখন একাধিক সোর্স থাকলে আমাদের জন্যই সুবিধা। সুতরাং আমি মনে করি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যদি ভালো হয়ে থাকে, ভালো হয়েছে বলে আমি মনে করি। ইচ্ছাকৃতভাবে যেটুকু খারাপ করে রাখা হয়েছিল সেইটুকু, অসাধারণ কোনো সম্পর্ক না। সেটা আমাদের স্বার্থে গেছে বলেই আমার বিশ্বাস।’