image
চুয়াডাঙ্গা : দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ -সংবাদ

ফিরে দেখা : চুয়াডাঙ্গায় ঘটেছিল ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

সোমবার ২৬ জানুয়ারি। ১৯৭৯ সালের এ দিনে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনের অদুরে গাইদঘাট নামক স্থানে ঘটেছিল এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই বহু ট্রেন যাত্রীরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহতদের আর্তনাদে এলাকাটি হয়ে ওঠে প্রকম্পিত। এ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৮৬ জন যাত্রী নিহত হওয়ার কথা বললেও প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরো বেশি। আহত হয়েছিলেন অন্তত ৫শ জন।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এটাই বৃহত্তর ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীগামী ২৩ আপ রকেট মেইল ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার আগে গাইদঘাট নামক স্থানে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

বিকট শব্দে ট্রেনের ইঞ্চিনটি পার্শ্ববর্তী খাদে ছিটকে পড়ে।ট্রেনের বগিগুলো একটার ওপর একটা উঠে পড়ে। বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়ে মুচড়ে রেল লাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। আহত নিহত স্বজনদের চিৎকারে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। ঘটনার পরপরই বিডিআর-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ আহত ও নিহতদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আহতদের সংখ্যা এতোই বেশী ছিল যে হাসপাতালে তিল ধরানোর ঠাঁই ছিল না। বিডিআর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে যশোর সেনানিবাস হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মশিউর রহমান। দর্শনার বাবার বাড়ি থেকে ওই ট্রেনে নিজ বাড়ি জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন কল্পনা মন্ডল। সাথে ৪ মাসের শিশুকন্যা। মুঠোফোনে সে দিনের কথা জিঞ্চাসা করতেই তিনি ভয়ে আতংকে শিহরে ওঠেন। সেদিনের ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন, আমি এবং আমার মেয়ে দুজনই আহত হই। কোনভাবে ওখান থেকে এসে দর্শনার কেরু কোম্পানির হাসপাতালে ভর্তি হই। সেদিনের একটি ঘটনা সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয়- সেটি হচ্ছে আমরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছি আর মানুষরূপী এক নরপশু আমাদের সাহায্য করা তো দূরে থাক, আমার গলায় থাকা সোনার হারটি হেঁচকা টানে ছিড়ে নির্বিঘেœ চলে গেল।

প্রায় একই স্থানে ৩টি রেল দুর্ঘটনা ঘটায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে গাইদঘাট নামে একটি রেল স্টেশন স্থাপন করেন এবং ওই স্থান দিয়ে যাতায়াতকারি প্রতিটি ট্রেন স্লো গতিতে অতিক্রম করতে ট্রেন পরিচালকদের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসন নিহতদের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিফলক স্থাপন করে। কিন্তু বর্তমানে ওই স্টেশনটিও নেই আর ট্রেনও স্লো গতিতে অতিক্রম করে না। আজ সবই অতীত।

‘শোক ও স্মরন’ : আরও খবর

সম্প্রতি