alt

জাপার মনোনয়ন দেবেন জি এম কাদের, ফের মহাজোটে চোখ রওশনের

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দোদুল্যমান অবস্থার মধ্যে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দুটি চিঠি এসেছে।

দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

অন্যদিকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে পাঠানো অন্য একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের দলের প্রার্থীরা আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘মহাজোটের’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন।

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তরিখ দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে তাতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে লড়তে চাইলে শনিবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে। এই সময় শেষ হওয়ার শেষ দিনে চিঠি দুটি পৌঁছে নির্বাচন কমিশনে।

মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাক্ষরিত চিঠিতে লেখা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। তার নমুনা স্বাক্ষরও পাঠানো হয় চিঠিতে।

চুন্নু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ভোটকে সামনে রেখে এ সংক্রান্ত ফর্মালিটিজ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

অন্যদিকে রওশনের চিঠিতে বলা হয়, "এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক লাঙ্গল কিংবা প্রার্থীর ইচ্ছানুসারে মহাজোটে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।"

তবে এটা কেবল ‘নির্বাচনী জোট’ হবে জানিয়ে বলা হয়, “নির্বাচন অন্তে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন।”

চিঠিটি নিয়ে আসা কাজী মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, "জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের চিঠি আমি পৌছে দিয়েছি। কেউ চাইলে জোটের প্রতীকও ব্যবহার করতে পারবেন। দলের মনোনয়ন কে দেবে না দেবে সেটা বিষয় নয়।"

২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, বিকল্প ধারা, এলডিপি ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে গঠন হয় মহাজোট।

বিএনপি-জামায়াত জোটের অংশগ্রহণে দেশ যখন এরতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়। আটকে যায় ভোট। প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের আগে এলডিপি ছেড়ে গেলেও থেকে যায় মহাজোট।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করতে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় পার্টির ভোটে অংশগ্রহণ প্রশ্নে ঘটে নানা নাকটীয়তা।

দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলও প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে আগে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহাজোট ভেঙে দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন।

তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের নেতারা ভোটে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। এর মধ্যে এরশাদ ‘অসুস্থ’ জানিয়ে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায় র‌্যাব।

সাবেক রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সে সময় জমা পড়া তিনটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনেরটি প্রত্যাহার হলেও তার নাম থেকে যায় লালমনিরহাট-১ ও রংপুর-৩ আসনে। এর মধ্যে রংপুর-৩ আসনে তিনি জিতে যান। ব্যালটে নাম থাকলেও লালমনিরহাট-৩ আসনে প্রচারে অংশ নেননি দলের বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

ভোট শেষে এরশাদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বললেও তার আগেই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন রওশন এরশাদ। পরে শেষ দিনে শপথ নেন এরশাদ। তাকে মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করে সরকার।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে এলে জাতীয় পার্টি আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের শরিক হয়ে ভোটে যায়।

নির্বাচনের পর মহাজোট আবার ভেঙে দেওয়া হয়। সংসদে প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। টানা দ্বিতীয়বার বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক হয়ে যেসব দল ভোটে অংশ নিয়েছিল, সেগুলো এবারও ক্ষমতাসীন দলের শরিক হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছ।

এর আগে আওমী লীগ, বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৪৪টি দলকেই প্রার্থী মনোনয়নকারীর নাম জানাতে চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র জমা দিতে জবে।

প্রার্থী মনোনয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নাম, পদবী, সত্যায়িত নমুনা স্বাক্ষর তফসিল ঘোষণার সাতদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠাতে হবে। আর এর অনুলিপি দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জাপা একাংশের

নারায়ণগঞ্জে মোহাম্মদ আলীর নির্বাচন করার ঘোষণা

ছবি

জামায়াতের ‘হিন্দু প্রার্থী’: কতোটা প্রভাব ফেলবে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত’ আসনে

ছবি

স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি

ছবি

বিদেশ নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

ছবি

বাঁশখালীতে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের পুনর্বহনের প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী জহিরুল ইসলামের

ছবি

বিএনপি সব সময় অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

ছবি

ভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করবে ইসি

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার

দেশের ফেরার সিদ্ধান্ত তার ‘একার নিয়ন্ত্রণে নয়’, বললেন তারেক

ছবি

ড্যাব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

ছবি

পাবনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলি ছোড়া যুবককে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি দাবি

ছবি

সাংবাদিকদের আবারও দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি

আ’লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনে ‘বিদেশ থেকে খেলা চলছে’, অভিযোগ জয়ের

ছবি

লালপুরে এবি পার্টির প্রার্থীর বিলবোর্ড ভেঙ্গে ও ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

ছবি

গোয়াইনঘাটে হাকিম চৌধুরীর উঠান বৈঠক ও গণমিছিল

ছবি

সিলেট-৩ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী মতিউর রহমান খানের প্রচারণা শুরু

ছবি

নরসিংদীতে বিএনপি প্রার্থীর বহরের গাড়ীতে আগুন, দগ্ধ ৪

ওবিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি

উত্তরায় ‘প্রার্থীহীন’ ধানের শীষের মিছিল

ইনুর পুনর্বিবেচনার আবেদনে জুলাই বিপ্লবকে ‘সো কলড’ বলা রাষ্ট্রদ্রোহিতা: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি

পাবনা-৪ আসনে এনসিপির মনোনয়ন ফরম নিলেন শিক্ষাবিদ এম এ মজিদ

ছবি

গণভোটে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছাড়া সংস্কার পূর্ণতা পাবে না: আমিনুল হক

ছবি

বাংলাদেশে ইসলামপন্থিরা অন্যের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চায় না: মামুনুল হক

ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৩ বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

পলাশে বিএনপির মতবিনিময় সভা

ছবি

দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই: তারেক

ছবি

সাংবাদিকদের ‘দলাদলি, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির’ সমালোচনায় ফখরুল

ছবি

পোরশায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা

ছবি

নারীরাই ধানের শীষের অন্যতম চালিকা শক্তি : সেলিমা রহমান

ছবি

সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় বিএনপি

কোরআন-সুন্নাহর বিপরীতে কোনো আইন থাকবে না: সালাহউদ্দিন

ছবি

প্রশাসনকে কীভাবে দখল করতে হবে, নেতারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ছবি

।কোরআন–সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন থাকবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

ছবি

মনোনয়ন পরিবর্তনে ব্যতিক্রমী রিভিউ!

ছবি

শ্রীনগরে এক মঞ্চে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৩ নেতা

tab

জাপার মনোনয়ন দেবেন জি এম কাদের, ফের মহাজোটে চোখ রওশনের

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দোদুল্যমান অবস্থার মধ্যে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দুটি চিঠি এসেছে।

দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

অন্যদিকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে পাঠানো অন্য একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের দলের প্রার্থীরা আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘মহাজোটের’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন।

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তরিখ দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে তাতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে লড়তে চাইলে শনিবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে। এই সময় শেষ হওয়ার শেষ দিনে চিঠি দুটি পৌঁছে নির্বাচন কমিশনে।

মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাক্ষরিত চিঠিতে লেখা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। তার নমুনা স্বাক্ষরও পাঠানো হয় চিঠিতে।

চুন্নু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ভোটকে সামনে রেখে এ সংক্রান্ত ফর্মালিটিজ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

অন্যদিকে রওশনের চিঠিতে বলা হয়, "এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক লাঙ্গল কিংবা প্রার্থীর ইচ্ছানুসারে মহাজোটে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।"

তবে এটা কেবল ‘নির্বাচনী জোট’ হবে জানিয়ে বলা হয়, “নির্বাচন অন্তে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন।”

চিঠিটি নিয়ে আসা কাজী মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, "জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের চিঠি আমি পৌছে দিয়েছি। কেউ চাইলে জোটের প্রতীকও ব্যবহার করতে পারবেন। দলের মনোনয়ন কে দেবে না দেবে সেটা বিষয় নয়।"

২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, বিকল্প ধারা, এলডিপি ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে গঠন হয় মহাজোট।

বিএনপি-জামায়াত জোটের অংশগ্রহণে দেশ যখন এরতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়। আটকে যায় ভোট। প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের আগে এলডিপি ছেড়ে গেলেও থেকে যায় মহাজোট।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করতে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় পার্টির ভোটে অংশগ্রহণ প্রশ্নে ঘটে নানা নাকটীয়তা।

দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলও প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে আগে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহাজোট ভেঙে দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন।

তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের নেতারা ভোটে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। এর মধ্যে এরশাদ ‘অসুস্থ’ জানিয়ে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায় র‌্যাব।

সাবেক রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সে সময় জমা পড়া তিনটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনেরটি প্রত্যাহার হলেও তার নাম থেকে যায় লালমনিরহাট-১ ও রংপুর-৩ আসনে। এর মধ্যে রংপুর-৩ আসনে তিনি জিতে যান। ব্যালটে নাম থাকলেও লালমনিরহাট-৩ আসনে প্রচারে অংশ নেননি দলের বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

ভোট শেষে এরশাদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বললেও তার আগেই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন রওশন এরশাদ। পরে শেষ দিনে শপথ নেন এরশাদ। তাকে মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করে সরকার।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে এলে জাতীয় পার্টি আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের শরিক হয়ে ভোটে যায়।

নির্বাচনের পর মহাজোট আবার ভেঙে দেওয়া হয়। সংসদে প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। টানা দ্বিতীয়বার বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক হয়ে যেসব দল ভোটে অংশ নিয়েছিল, সেগুলো এবারও ক্ষমতাসীন দলের শরিক হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছ।

এর আগে আওমী লীগ, বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৪৪টি দলকেই প্রার্থী মনোনয়নকারীর নাম জানাতে চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র জমা দিতে জবে।

প্রার্থী মনোনয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নাম, পদবী, সত্যায়িত নমুনা স্বাক্ষর তফসিল ঘোষণার সাতদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠাতে হবে। আর এর অনুলিপি দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।

back to top