দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আজ গণভবনে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে ‘মতবিনিময় সভা’ করবেন বলে গত শুক্রবার দলের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সভা শুরু হবে সকাল ১০টায়। এখান থেকে দলীয় প্রধান কী বার্তা দেবেন, তা জানতে উৎসুক সবাই।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, এবার জাতীয় নির্বাচনে ‘যাকেই’ মনোনয়ন দেয়া হোক ‘তার পক্ষেই’ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা আসবে মতবিনিময় সভায়। একই নির্দেশনা এর আগেও দলীয় প্রধানের বক্তব্যে এসেছে।
এবার সংসদীয় ৩০০ আসনে নৌকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬২টি। সে হিসাবে, প্রতি আসনে গড়ে ১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে বর্তমান (একাদশ) সংসদ সদস্যরা (এমপি) যেমন আছেন, তেমনি একাদশ সংসদে মনোনয়ন বঞ্চিতরাও আছেন। আবার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও আছেন।
মনোনয়নয় কিসের ভিত্তিতে,
বাদ পড়ছেন কারা?
এখন কিসের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে, কাকে রেখে কাকে বাদ দেয়া হবে, এটি জানতেও অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড বৈঠক শুরু করেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শনিবার না হলেও রোববার ৩০০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন মুখ যেমন এসেছে, তেমনই আগের সংসদ সদস্য (এমপি) কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উইনেবল প্রার্থী আমরা বাদ দিইনি। নির্বাচনে জিতবে- যারা ইলেক্টেবল, তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য’ ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, মনোনয়নের লক্ষ্যে জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই করার জন্য আসনভিত্তিক জরিপ চালানো হয়েছে। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দলে সম্পৃক্ততা, অতীত অবদান, গ্রহণযোগ্যতা- এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও জরিপের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে ধারণা নেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি জানান, জরিপের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে।
আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে। যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। আমি কারও চেহারা দেখে মনোনয়ন দেবো না। দেখেশুনে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নমিনেশন দেবো। এখানে (সংসদীয় দলের সভায়) যারা আছেন সবাই মনোনয়ন নাও পেতে পারেন।’
এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার আগের সংসদের অর্ধ শতাধিক এমপি দলীয় মনোনয়ন পাননি। আবার ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার আগের সংসদের প্রায় অর্ধশত এমপিকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। কয়েকজন মন্ত্রীও সে সময় মনোনয়নবঞ্চিত হন।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও অনেক এমপি মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের যে তফসিল কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন ঘোষণা করেছে, তাতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ রাখা হয়েছে ৩০ নভেম্বর।
এই সময়ের মধ্যেই দলীয় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দেয়া হবে, যা তারা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিবেন।
সকাল ১০ টায় মতবিনিময় শুরু
গণভবনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকার বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোববার সকাল ১০টায় ওই ‘মতবিনিময় সভায়’ সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মনোনয়নপত্রের রিসিভড কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমের ফটোকপিসহ যথাসময়ে মতবিনিময়ে উপস্থিত হতে ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য (তিনিও মনোনয়নপ্রত্যাশী) সংবাদকে বলেন, ‘মতবিনিময় সভা শেষে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে যাবেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘হয়তো, আজ সন্ধ্যায় বা রাতে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।’
জোট হবে প্রয়োজন পড়লে
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারো জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করার কথা নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এখন ৩০০ আসনেই প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে রাখছে দলটি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের রূপরেখা কী হবে, আসন কতটি ছাড়া হবে এই বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট করেনি ক্ষমতাসীনরা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শনিবার (২৫ নভেম্বর) ধানমন্ডিতে দলীয় প্রধানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রয়োজন না হলে জোট নয়। জোটের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একটি জোটের বিপরীতে আরেকটি জোট হয়। সেক্ষেত্রে জোটের প্রয়োজন না পড়লে কেন জোট করতে যাব?’