আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) অংশ নেবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, সামগ্রিক পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। বুধবার,(১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে ঢাকার কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আজ (বুধবার) থেকেই আমাদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সবাইকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করবে। অন্যথায় দেশের সংকট কাটবে না। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।’
জাপা মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর ৯টি সংসদ নির্বাচনেই জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেছে। তবে কোনো নির্বাচনের দুই মাস আগে আইনশৃঙ্খলা এত খারাপ ছিল বলে মনে হয় না। ভোটের আগে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমনটা না থাকায় উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। অথচ সেই পারদ কমানোর জন্য সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো অংশীজনও এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। এ কারণে ওসমান হাদির মতো উদীয়মান নেতাকে গুলি করা হয়েছে। আর সেই ঘটনার ফলশ্রুতিতে নেহারি খাওয়ার ছবি দেয়ায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্তিমিত হয়ে আসছে বলে আমরা মনে করি।’
জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সাবেক তথ্য উপদেষ্টা বলছেন- লাশের বদলে লাশ পড়বে। এর আগে সরকারে থাকতেও তিনি বলেছিলেন- বিএনপি ও জামায়াত ভাগাভাগি করে প্রশাসন সাজিয়েছে। তাই আমরা আশঙ্কা করছি একটি পাতানো নির্বাচন বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ভোটের পর ভোট বা মিডিয়া ভোট হতে পারে। কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময় ইতিবাচক রাজনীতির পক্ষে। অতীতে আমরা সরকার, প্রধান বিরোধী দলে ছিলাম।’
একটি মহল একাত্তরের চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে- এমন অভিযোগ করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করছে। আমরা মনে করি ’২৪ মানে একাত্তরের পরাজয় নয়। ধারাবাহিকতা মাত্র। যারা একাত্তরকে ধারণ করবে, তারা ’২৪-কেও লালন করবে। আমরা মনে করি এই যুগপৎ সমন্বয়ের রাজনীতি বর্তমানে অনুপস্থিত। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ বাঁচাতে হবে।’
গত এক বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি- এমন দাবি বরে জাপার এই নেতা বলেন, ‘সর্বত্রই মব সন্ত্রাস। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। জামিন হওয়ার পর আবারও জেলগেইট থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি (সংসদ সদস্য) গোলাম কিবরিয়ার বারবার জামিন হওয়া সত্ত্বেও জেলগেইট থেকে গ্রেপ্তার করে নতুন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তিনি ভিত্তিহীন মামলা থেকে সাধারণ মানুষের অব্যাহতি চান।’
তিনি নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আহ্বান জানান। আর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ও সমর্থককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার না করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সবুর আসুদ ও সাইফ উদ্দিন আহমেদ মিলনসহ জেষ্ঠ্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক: বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে জ্বালানির দাম
আন্তর্জাতিক: খামেনির ছেলে মোজতাবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত