জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা ও জোট গঠনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির — এনসিপির আরেক নেতা। দশ মাস আগে আত্নপ্রকাশ করা দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
মুরসালীনের পদত্যাগের আগেও দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন এবং সিনিয়র নেতা তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছিলেন। তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
খান মুহাম্মদ মুরসালীন তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি আজ থেকে এনসিপির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেন এই সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা ভিডিও বার্তায় জানালাম। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেও রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করছি না। দেখা হবে রাজপথে।
তিনি দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মিডিয়া সেল, প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং কিছুদিন নির্বাচনকালীন মিডিয়া উপকমিটির সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রতিবাদ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন গত শনিবার। মুরসালীন ছিলেন সেই ৩০ নেতার অন্যতম। তবে সেদিন তিনি বলেছিলেন, কিন্তু তার মানে তো এই না যে আমরা দল ছেড়ে যাচ্ছি কিংবা দল ভেঙে দিচ্ছি। বিষয়টা তো এমন না। এটা একটা পলিসিগত সিদ্ধান্ত। একটা সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করেছি। এটা হচ্ছে মূল ব্যাপার। দ্বিমত পোষণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কিন্তু পদত্যাগ নয়।
দলের আরেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনও রোববার ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র না এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হতে পারে।
এছাড়া দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমও দলীয় ও নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্রিয় না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি গত ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মপ্রকাশ করে।