image

নির্বাচনে হলফনামায় ১০ তথ্য প্রচারের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের হলফনামার বেশ কিছু তথ্য প্রচারের নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

কাউন্টার এফিডেভিট

কোন ব্যক্তি যদি এই মর্মে অন্য একটি শপথনামা প্রদান করেন যে, প্রার্থীর প্রদত্ত তথ্য যথার্থ নয় এবং তিনি তার সমর্থনে দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা কাউন্টার এফিডেভিট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোন ব্যক্তি কাউন্টার এফিডেভিট প্রদান করলে তাকে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে এ ধরনের কাউন্টার এফিডেভিট বিবেচনায় নেবেন।

তাছাড়া হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করা তথ্যের কোন সংশোধন থাকলে বা অতিরিক্ত কোনো কিছু থাকলে তা দেওয়ারর জন্য সম্পূরক এফিডেভিটও গ্রহণযোগ্য হবে।

হলফনামার তথ্যাবলী প্রচার

প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

এতে বলা হয়েছে, হলফনামার তথ্যাদি লিফলেট আকারে ভোটারদের মাঝে প্রচার করতে হবে এবং নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাট-বাজারে বা অন্য জনাকীর্ণ স্থানে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী বা প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে প্রতিনিধির উপস্থিতি

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/প্রতিনিধি ঋণ খেলাপীদের তথ্য, থানার ওসি ফৌজদারী মামলা সম্পর্কিত তথ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি আয়কর রিটার্নের তথ্য, সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় তাদের দেওয়া তথ্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে, প্রত্যেক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর সই করা হলফনামা সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করে দাখিল করার বিধান রয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামার নমুনা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য এবং কোনো কোনো তথ্যের স্বপক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা যথাযথভাবে দাখিল করা হয়েছে কিনা এবং হলফনামার তথ্য যথাযথ কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার।

এসব তথ্য অসত্য হলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ঝড়ে পড়বেন সম্ভাব্য প্রার্থী। কেউ অসত্য তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে ‘কাউন্টার এফিডেভিট’ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রার্থীর জন্ম তারখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস, মামলার তথ্যসহ একগুচ্ছ বিষয়ে হলফনামা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি এবার আইনে সংস্কার এনে অসত্য তথ্য দেওয়া হলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করেছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে অর্ধশত দলের প্রার্থী রয়েছে দুই হাজারের বেশি; বাকিরা স্বতন্ত্র। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে।

বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে ২০ জানুয়ারি; পরদিন তাদের প্রতীক দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন হবে, একই দিন গণভোটও রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল, হলফনামার তথ্য বাছাই, হলফনামার তথ্যাবলী প্রচার এবং বাছাইকালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়ে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার জন্য ইসি পরিপত্র জারি করেছে।

মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ে নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মনির হোসেন এ সংক্রান্ত পরিপত্র সবার কাছে পাঠিয়েছেন।

হলফনামায় যেসব তথ্য থাকতে হয়

>> জন্ম তারিখ এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীর বয়স।

>> প্রার্থীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ উত্তীর্ণ পরীক্ষার নাম দিতে হয়। নিরক্ষর বা স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হলে দিতে হবে সেই তথ্য। সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না থাকলে নম্বরপত্র দিলেও চলবে।

>> প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারী মামলা হয়েছে কিনা; রায় হয়ে থাকলে সেটাও দিতে হবে।

>> প্রার্থীর পেশার বিবরণী।

>> নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা (বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে)।

>> দেশে ও বিদেশে প্রার্থী এবং নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস। আয়কর রিটার্ন এবং মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

>>দেশে ও বিদেশে প্রার্থীর নিজের বা তার উপর নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়ের বিবরণী।

>> আগে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কিনা।

(হয়ে থাকলে নির্বাচনের আগে কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কী পরিমাণ অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল, তার বিবরণী দিতে হবে।)

>> ঋণ সংক্রান্ত তথ্যাবলী দিতে হবে।

(কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একক বা যৌথভাবে বা তার উপর নির্ভরশীল সদস্যদের ঋণের পরিমাণ অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।)

>> আয়কর সংক্রান্ত তথ্য (সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণ) দিতে হবে।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে অন্যান্য কাগজাদি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরাসরি মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান আছে। সরাসরি দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত হলফনামার নমুনা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত হলফনামা ছাড়াও নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী, সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয় ও ব্যয় বিবরণী অনুসারে দাখিল করতে হবে।

দাখিল করা হলফনামার তথ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।

যদি কোনো প্রার্থী হলফনামা দাখিল না করেন, বা দাখিল করা হলফনামায় কোনো অসত্য তথ্য দেন, বা তথ্য গোপন করেন বা হলফনামায় তথ্যের সমর্থনে যথাযথ প্রমাণা দাখিল না করেন, তাহলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে।

হলফনামা ও অন্যান্য তথ্য মনোনয়নপত্র জমার দিন থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

হলফনামার মূল কপি ছাড়াও ফটোকপি করে আরো দুটি অনুলিপি প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রিটার্নিং করর্মকর্তাদের।

হলফনামার মধ্যে মূল কপিটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষণ করতে হবে, এক কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং আরেক কপি থেকে বিভিন্ন এনজিও, সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ বা অন্য কোনো ব্যক্তি ফটোকপি করে নিতে পারবেন।

এনজিও, সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ বা অন্য যেকোন ব্যক্তি ফটোকপি নিজেরা করে নেবেন।

কোনো ব্যক্তি ‘কাউন্টার এফিডেভিট’ দিতে চাইলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি