ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির একটা জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যেখানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে আক্ষেপ করেছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তের প্রেক্ষাপটে যেহেতু আওয়ামী লীগ নাই, বিএনপির একটা জোয়ার দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমি আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। এটাকে আমি ভাগ্যের খেলা ছাড়া কী-ই-বা বলতে পারি।”শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন বিএনপির জোট শরিক দলের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে দলকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। এ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়া আপনাকে মনোনয়ন দিতে বলেছিলেন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, “দলের ঊর্ধ্বতন, অতি ঊর্ধ্বতন কিছু মানুষ গিয়েছিলেন ওনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করতে। তখন উনি বলেছিলেন এই কথাটা। রুমিনেরটা কি হলো, রুমিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না। তিনি হাসপাতালে যাবার দুই তিন দিন আগেও এই কথাটা বলেছিলেন। যেটাই হোক রাজনীতিতে কিন্তু তকদিরের বাইরে কিছুই হয় না। ভীষণ রকম ভাগ্য এখানে কাজ করে। আমার ভাগ্যে ঠিক ওটাই ঘটছে, যেটা আমার বাবার সঙ্গে ১৯৭৩ সালে ঘটেছিল। তখন নৌকার জোয়ার ছিল। আর অন্য কোনো দলের জোয়ার ছিল না। বাবা স্বতন্ত্র জিতেছিল।”
এ আসনে জোটের প্রার্থী সঠিক হলো কি-না প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, “মানুষ যদি ভোট দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি মানুষ ভোট না দেয়, ভুল সিদ্ধান্ত। যদি কোনো বেইনসাফ হয়ে থাকে সেই বিচার আমি আমার ভোটারদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। মানুষ কি বলে আপনি দেখেন।”
তিনি বলেন, “এ আসনে মানুষ ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমি দেখছি। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানানোর কোনো ভাষা আমার জানা নেই। মুরুব্বিরা আসেন এবং বলেন, ‘আম্মা আপনাকে জিতায়ে আমরা জবাব দেব।’ এই যে মানুষের ভালোবাসা এই ঋণ আমি কী দিয়ে পরিশোধ করব।”
মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষোভ আছে কি-না প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “একদম না। দলের যখন দুঃসময় ছিল তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা অনেক সময় দেখা গেছে, সেটা আমার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বড়। সে দায়িত্ব আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যেটার একটা রূপ আপনারা দেখেছেন। ২০১৮ সালের সংসদে ২০১৯ সাল থেকে আমি যোগদান করি এবং সেখানে আমার ভূমিকা কী ছিল। যখন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমাকে পদত্যাগ করতে বলে, আমি এক মুহূর্ত চিন্তা করি নাই। যখন বলেছে, যেদিন বলেছে, আমি সেই মুহূর্তেই পদত্যাগ করেছি। এরপর দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্ব আমি তাকে আমি স্বাগত জানাই। আমার সেবার আর কোনো দরকার নেই ঠিক আছে, ভালো। আমি আমার রাজনীতি চালিয়ে যাব।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি আসনে ৬ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে তিনটির মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুক্রবার শেষ হয়েছে। ওই তিন আসনের মোট ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেন। শনিবার বাকি তিনটি আসনের প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানান তিনি।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দুইজন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের চারজন রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের সবার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন যুক্ত স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তালিকায় ভোটারের স্বাক্ষর থাকলেও দৈবচয়নে যাচাই করা হলে অনেক ভোটার তা অস্বীকার করেছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১২ প্রার্থীর কারো মনোনয়ন বাতিল হয়নি। জেলা প্রশাসক শারমিন জাহান আক্তার বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।