image

একাত্তর বাদ দিলে অস্তিত্ব থাকে না: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টকে তারেক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানিয়েছেন, বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের’ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এ কথা বলেন। সেখানে তারেক আরও বলেছেন, অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদীসহ সবাইকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তার আছে।

সোমবার, (০৫ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলেকে সমবেদনা জানাতেই মূলত ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের’ নেতারা গিয়েছিলেন। পাশাপাশি সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসেবে এবং পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে আমরা গিয়েছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন, আসার পর মাতৃবিয়োগ শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা-সমবেদনা এগুলো জানাতে গিয়েছি। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। এয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৯ নভেম্বর ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে সাতটি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল।

‘একাত্তর আমাদের ভিত্তি’

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) একটা জিনিস বলছেন যে, আমি তো গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরই বক্তব্যে যেটা বলেছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না, কাজেই সেটা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। উনি যেটা বলছেন উনার কথা যে, আমরা একটা এখানে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে, সবাইকে নিয়েই আমাদেরকে এখানে চলতে হবে। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ-সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে সেটা শুধু পরিকল্পনা না সেটা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও আমরা যেতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘উনি বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে অপজিশন থাকবে। আপনাদের সঙ্গে হয়তো অনেক বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার বিভিন্ন দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করবো। মাঝে মধ্যে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদেরকে দিবেন, আমরা যেটা গ্রহণ করার সেটা আমরা গ্রহণ করবো। এরকম বললেন যে, একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক।’

সাক্ষাতে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ কি বলেছে তা তুলে ধরে বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা বলছি যে, একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিক্যাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্বশর্ত এবং সেখানে একটা নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা আমরা বললাম।’

‘আমরা বলছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে সেভাবে ইয়ে না করতে পারে এবং আমরা যেটা বলছিলাম যে, জামায়াতে ইসলামী তারা এসে বললো যে জাতীয় সরকারে থাকবে।’

‘উনি (তারেক রহমান) এটা বললেন যে, আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা হয় নাই। বাইরে তারা এটা বলছেন। আমাদের সঙ্গে এখানে এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলে নাই। শুধু বলছে যে, দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সেটুকু কথা হয়েছে। আমরা বলছি, সেখানে অবশ্যই যে মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন পথ থাকবে। কিন্তু এ প্রশ্নে এক থাকা দরকার। আমাদেরকেও সেটা উনি বলছেন যে, মত ভিন্নতা থাকবে সমালোচনা থাকবে।’

‘সমালোচনা অবশ্যই থাকবে’

বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা (গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট) বলছি যে, আমরা আজকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতেছি এটা শোকের পরিবেশ কিন্তু সরকারে যদি আপনারা যান আমরাই হয়তো দেখবেন যে বেশি সমালোচনা করবো আপনাদের। উনি বলেছেন যে হ্যাঁ অবশ্যই সমালোচনা তো থাকবেই । সমালোচনা না করলে তাহলে আর গণতন্ত্র হলো কেমন করে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও হবে। ভবিষ্যতে আরও কথা হবে দেখা হবে, আলোচনা হবে এটা যাতে অব্যাহত থাকে সবার সঙ্গেই এই আলোচনাটা যাতে অব্যাহত থাকে মতবিনিময় যাতে অব্যাহত থাকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

এর আগে প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা স্বাক্ষর করেন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি