ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্ট সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেশহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে অধিগ্রহণকৃত জমিতে বেআইনিভাবে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালত এ আদেশ দেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন: সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাফর আহমেদ খান, সাবেক মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম, যিনি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে, পরস্পর যোগসাজশে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে, নিজেরা লাভবান হওয়া এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এছাড়া নির্মিতব্য ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা প্রণয়ন ও নীতি বহির্ভূতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং অনুমোদিত নীতিমালা গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করেই তা অনুসারে ফ্ল্যাট বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
তদন্তে আরও জানা যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম গত ৮ ডিসেম্বর এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পরে তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যা বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ এর ১৩(২) ধারা অনুযায়ী কেবল অস্থায়ী ইজারা দেওয়ার বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় ’বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রকল্পের স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাট দীর্ঘমেয়াদি লিজ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন করা হয়। এই নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দুদকের অভিযোগ।