image

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফরে নির্বাচনি আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফরকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে দেখার ‘কোনো সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তারেক রহমানের চারদিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য একজন শহীদের কবর জিয়ারত করা বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন।

আগামী সোমবার চারদিনের সফরে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর জাফরপাড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদে কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। রংপুরের আগে বগুড়া যাবেন তিনি; এছাড়া দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাটও সফর করবেন তারেক রহমান।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারেক রহমান সফরকালে তিনি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

চার দিনের কর্মসূচিতে ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। পর দিন ১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর যাবেন। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন।

১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করবেন। সেখান থেকে ফিরে রংপুরে রাতযাপন করবেন।

এছাড়া মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ ও তৈয়বা মজুমদারসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারতের পাশাপাশি দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগে তারেকের এই সফর আচরণবিধি ‘ভঙ্গ করছে’ বলে অনেকের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন বলেন, “এটা (তারেক রহমানের সফর) ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ত অনেকে দেখছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা এটা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব…আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনেক আগেই সেটা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের এখনো সেই যাত্রাটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।”

“এই শহীদদের (গণঅভ্যুত্থানের শহীদ) প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবরে জিয়ারত করা এটা জাতির প্রত্যাশা। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা ধারণ করি এবং আমাদের সেই চেতনাকে ঊর্ধে তুলে ধরতে হবে। তার জন্যই তার (তারেক রহমান) যাওয়া। এখানে নির্বাচন আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টাকে দেখি।”

সালাহউদ্দিন বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব যেন ২০২৪ সালের ছাত্রগণ অভ্যুত্থানের মর্যাদাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ না করি। আমরা শহীদদের আত্মত্যাগকে যেন আরো মহিমান্বিত করি জাতীয় পর্যায়ের। আমাদের দেশের সবচাইতে মেজর পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে তার চূড়ান্ত শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে জনাব তারেক রহমান যদি শহীদদের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে পুষ্পমালা অর্পণ করেন, শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাহলে সেটা এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করা হবে। প্রত্যাশাকে ধারণ করা হবে এবং এটাই জনপ্রত্যাশা জাতির প্রত্যাশা এই দৃষ্টিকোণ থেকে যেন আমরা দেখি।”

১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুতে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি গত সোমবার শেষ হয়েছে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি