image

তারেকের উত্তরাঞ্চল সফরে আচরণবিধি ভঙ্গ হবে না: সালাহউদ্দিন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফরের উদ্দেশ্য একজন শহীদের কবর জিয়ারত করা, এখানে নির্বাচনী আচরণবিধি ‘লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

চারদিনের সফরে আগামী সোমবার রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর জাফরপাড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদে কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। রংপুরের আগে বগুড়া যাবেন তিনি। এছাড়া দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাটও সফর করবেন তারেক রহমান।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে তারেকের এই কর্মসূচি আচরণবিধি ‘ভঙ্গ করছে’ মন্তব্য করে অনেকে অভিযোগ তুলেছে বলে জানান সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এটা (তারেক রহমানের সফর) ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ত অনেকে দেখছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা এটা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব, আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনেক আগেই সেটা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের এখনও সেই যাত্রাটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, ‘এই শহীদদের (গণঅভ্যুত্থানের শহীদ) প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবরে জিয়ারত করা এটা জাতির প্রত্যাশা। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা ধারণ করি এবং আমাদের সেই চেতনাকে ঊর্ধে তুলে ধরতে হবে। তার জন্যই তার (তারেক রহমান) যাওয়া। এখানে নির্বাচন আচরণবিধির কোন বিষয় নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টাকে দেখি।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করব যেন ২০২৪ সালের ছাত্রগণ অভ্যুত্থানের মর্যাদাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ না করি। আমরা শহীদদের আত্মত্যাগকে যেন আরও মহিমান্বিত করি জাতীয় পর্যায়ের। আমাদের দেশের সবচাইতে মেজর পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে তার চূড়ান্ত শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে জনাব তারেক রহমান যদি শহীদদের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে পুষ্পমালা অর্পণ করেন, শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাহলে সেটা এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করা হবে। প্রত্যাশাকে ধারণ করা হবে এবং এটাই জনপ্রত্যাশা জাতির প্রত্যাশা এই দৃষ্টিকোণ থেকে যেন আমরা দেখি।’

চার দিনের কর্মসূচিতে ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। পর দিন ১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর যাবেন। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করবেন। সেখান থেকে ফিরে রংপুরে রাতযাপন করবেন। বিএনপির তরফ থেকে বলা হয়েছিল, তারেক রহমান সফরকালে তিনি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ ও তৈয়বা মজুমদারসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারতের পাশাপাশি দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুতে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি গত সোমবার শেষ হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের ডেকে বোঝানোও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এরকম একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলে অনেক প্রার্থী থাকে যাদের প্রত্যাশা থাকেৃতারা হয়ত তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা পায় নাইতারা নমিনেশন চেয়েছিল। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে, আমাদের আসন সমঝোতার স্বার্থে এবং পার্লামেন্টে আমরা মাল্টিপার্টি রিপ্রেজেন্টেশনের জন্য যেটা বলি আর কিৃ বহু পার্টির যে একটা প্রতিনিধিত্ব থাকবে সেটার স্বার্থে আমরা আমাদের অনেক যোগ্য প্রার্থীকে আমরা বলতে গেলে বঞ্চিত করেছি। সুতরাং তাদের মনব্যথা আছে তাদেরকে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে আমরা বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করব। আশা করি সেটার মীমাংসা হবে।’

নির্বাচন নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ইনশাল্লাহ সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং সকল রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতায় আমরা সেই নির্বাচনী বৈতরণী খুব সহজভাবে পার করতে পারব। সবার অনেক দাবি থাকলেও নির্বাচনের জন্য সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা গণভোটের বিষয়ে, নির্বাচনের বিষয়ে, বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি, বা যুক্তি উত্থাপন করেছিল, অভিযোগ উত্থাপন করেছিল এবং আমার মনে হয় তারা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে।’

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

সম্প্রতি