বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ভারমুক্ত’ তথা পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হলেন। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে এমন ঘোষণা আসে।
শুক্রবার রাত ৯টায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
দলটির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয় রাত ৯ টায় শুরু হয়ে অনেকক্ষণ চলে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠক থেকে তাকে (তারেক রহমান) বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি আলোচনায় রাখা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন,দুএক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হচ্ছেন। তবে দলীয়ভাবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, এমনকি চেয়ারম্যান পদবিও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীদের প্রচারের ব্যানার ও ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়।
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য অনুরোধ করেন। তবে তিনি তৃণমূল নেতাদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। এ বিষয়ে তিনি বরাবরই এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
এদিকে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হন, সে ক্ষেত্রে তিনি শুধু নিজের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে ব্যবহার করতে পারবেন। এসব ছবি পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে এবং কোনো অনুষ্ঠান বা জনসভায় নেতৃত্বদান কিংবা প্রার্থনারত ভঙ্গিমায় প্রদর্শন করা যাবে না।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।