image
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ: মির্জা ফখরুল

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার, (১২ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, খুন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব উদ্বিগ্ন, এটা সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা মনে করি, এটা সরকারের ব্যর্থতাই যে তারা এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।’

‘সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী, আমরা মনে করি যে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ‘একমত’ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে।

‘আমরা মনে করি, এটা আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত এটার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি ছোট খাটো বিষয়গুলো আলোচনার মধ্যে সমাধান করাই উত্তম।’

বিএনপি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। এ দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই বিএনপির অর্জন। এই যে সংস্কার একদলীয় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, মুক্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এসব সবই বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে; এখন বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আর এখন যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে গৃহিত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি বিএনপি নিঃসন্দেহে অতীকে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করতে বিএনপি সক্ষম হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে। নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে, যখন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে কিন্তু বোঝা যাবে না, এখন সবাই যে যার সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। মনোনয়নের ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে, নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গিকারবদ্ধ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট আছে; তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ।

‘ভারতের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো এবং পানির হিস্যা আদায় করবো। একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের সঙ্গে যে মিউচুয়াল রেসপেক্ট, সম্মান, সবকিছু মাথায় রেখে আমরা দাবি আদায় করবো।’

ফ্যাসিস্টদের বিএনপি ‘ভয় করে না’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণভোটের প্রচার বিএনপির দায়িত্ব না, জনগণের দায়িত্ব ভোট দেয়া। গণভোটে ‘হ্যাঁ বা না’ জনগণ যা করবে তাই হবে। আর যারা সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয়ে থাকবে, নিজেরা কোনো কাজ করে না, বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে তাদের কাছে এগুলো মনে হয়।

‘আমরা ফ্যাসিস্টদের তাড়াতে জানি, মারতেও জানি এবং মার খেতেও জানি। অতএব বিএনপি ফ্যাসিস্টদের ভয় করে না।’

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনে ১৭ কোটিপতি প্রার্থী

সম্প্রতি