দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রাম মহানগরে জমে উঠছে নির্বাচনী আমেজ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনছেন তাদের সমস্যার কথা, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ছাড়াও ভোটের মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বামপন্থিরা।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) ও চট্টগ্রাম-১১ (হালিশহর-পতেঙ্গা) এই তিন আসন নিয়েই মূলত চট্টগ্রাম মহানগর।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী)
এই আসন হচ্ছে নগরীর হৃৎপি-। ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ আসনটি অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ জন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন মো. আবু সুফিয়ান ( বিএনপি), মো. শফি উদ্দিন কবির (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী), মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), আব্দুস শুকুর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. নেজাম উদ্দীন (বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি), মো. হায়দার আলী চৌধুরী (জনতার দল) এবং সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (গণসংহতি আন্দোলন)।
জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। অন্য দেশের নাগরিত্বের কারণে এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশনে আপিলেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি। তবে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করবেন বলে জানান। তার অভিযোগ, ‘সরকার বিশেষ একটি দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য চেষ্টা করছে। এরকম করতে থাকলে প্রয়োজনে আরও একটা ৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’
বিএনপি প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, তিনি কলেজ জীবন থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ভোটারদের পক্ষ থেকে যে ‘ভালোবাসা ও আন্তরিকতা’ তিনি পাচ্ছেন, তাতে ‘বিপুল ভোটে’ তিনি ‘বিজয়ী হবেন’ বলেই তার আশা।
বৃহত্তর সুন্নি জোটের (ইসলামিক ফ্রন্ট) প্রার্থী মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কফিল উদ্দীন। কোতোয়ালী ও বাকলিয়া এলাকার মানুষ তাকে একজন ‘সৎ ও নীতিবান’ নেতা হিসেবে জানে। তাই এলাকাবাসী তাকে ‘ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন’ আশা তার।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী)
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন সাঈদ আল নোমান (বিএনপি), মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী (জামায়াতে ইসলামী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী আসমা আকতারসহ কয়েকজন।
বিএনপি দলীয় প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, তার বাবা সাবেক বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানের কথা। ‘তার (আব্দুল্লাহ আল নোমানের) প্রতি চট্টগ্রামবাসীর যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা রয়েছে হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে তেমন ভোট যাবে না বলে’ সাঈদ নোমানের বিশ্বাস।
জামায়াতের প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বললেন, ভোটাররা ‘মজলুমদের’ পক্ষেই অবস্থান নেবেন বলে তার বিশ্বাস।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)
আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শফিউল আলম, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, বাসদের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু তাহের, বাসদের নিজামুল হক আল কাদেরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের আজিজ মিয়া।
বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেন, ‘ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এলাকা ও কেন্দ্রভিত্তিক কাজ করছেন।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু তাহেরও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন সরকার ও বিরোধী দলে থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। এরশাদ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।‘
জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলমের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বাসদ এর আল কাদেরী জয় বলেন, ‘এ দেশের সাধারণ জনগণের অবস্থা পাল্টাতে হলে দরকার ব্যবস্থা বদলানোর সংগ্রাম করা। নির্বাচন এলে কালো টাকা, ঋণখেলাপী, পেশিশক্তি, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার করে সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করা হয়। এর বিপরীতে গরিব, মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে মই মার্কায় প্রার্থী হিসেবে আমি সবার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’