image
ছবিঃ সংগৃহীত

পোস্টাল ব্যালটে ‘অনিয়ম’ ও ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ বিএনপির

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, পোস্টাল ব্যালট বিতর্কে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার, (১৫ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিদেশে একেকটি বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যালট জব্দ করা হচ্ছে, আবার ২২ তারিখে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও এখনই কোথাও কোথাও ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, একজনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অন্যজন ব্যালট গ্রহণ করছেন, যা গুরুতর অনিয়ম।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়ম প্রথম করা হচ্ছে। এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারতো। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে, এখানে আমরা (বিএনপি) ভিকটিম হচ্ছি। আসলে ধারণা না, এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কিছু কাজ এখানে হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ব্যালট এক জায়গায় পাওয়া গেলে এর দায় কার সে বিষয়ে ইসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ব্যালটেই প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবেন, তাদের নাম ও প্রতীক সংবলিত একই ব্যালট যেন পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত না হন।

এছাড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও ভোটার নম্বর রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি। বর্তমান আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে দলীয় নাম বা প্রার্থীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মনে করে বিএনপি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সফর স্থগিত করেছেন। অথচ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে নির্বাচনী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন, কিন্তু ইসি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক সিনিয়র সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি