আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইসির শোকজের জবাব দিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে লিফলেট বিতরণ করায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘রিটার্নিং অফিসার কোনো ধরনের যাচাই না করে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’ শনিবার, (১৭ জানুয়ারী ২০২৬) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নির্বাচন ভবনের সামনে সাধারণ মানুষের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন মামুনুল হক। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান রিটার্নিং কর্মকর্তা। নোটিশের জবাব দেয়ার পর শনিবার নির্বাচন ভবনে এ প্রার্থীর আইনজীবী বলেন, ‘শোকজের জবাব দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়নি বলে জবাব দেয়া হয়েছে। বরং সরকারের পক্ষে, জনগণের পক্ষে উনি (মামুনুল হক) জনগণকে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেটা লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা সব প্রার্থীর জন্য যেন আচরণবিধি সমানভাবে কার্যকর হয়, কারো প্রতি বৈষম্য আচরণ না করা হয়Ñ তা তুলে ধরেছি।’ আচরণবিধি প্রতিপালনে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সামনে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর চেষ্টা করা হয়েছে। আমার নির্বাচনি যে প্রস্তুতি, আমার মনোযোগ ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। লিফলেটে গণভোট ও হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন ছিল; কাজেই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অক্ষুণœ রাখতে সহযোগিতা করবেন। গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় কোনো প্রার্থীকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়; আমরা কনসার্ন জানিয়ে আসছি।’
মামুনুল বলেন, ‘একটি দলের প্রধান হয়েও এ ধরনের হয়রানির শিকার হলে লেভেল প্লেয়িং কতখানি রয়েছে, তা নিয়ে শঙ্কার জায়গা তৈরি হলো।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে প্রচার, যা শেষ হবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে। প্রচারণা সময়ের আগে অর্থাৎ ২১ জানুয়ারির আগে প্রার্থী ও দলকে প্রচারণায় নামতে বারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, আচরণবিধি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও দলের জন্য। গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, রাজনৈতিক দল নেই। তার পরও আমরা বলব, রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে ২১ জানুয়ারির আগে এটা (‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচার) না করাটা ভালো, এটাই উচিত। আগাম প্রচার সমীচীন নয়।’