image

ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ভি‌ডিও ভাইরাল: যা বললেন রুমিন ফারহানা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে হাতের ইশারায় ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখাতে দেখা যায়, যা নিয়ে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা ওই অঙ্গভঙ্গি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে নয়। বরং যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দিয়েছেন, সেই প্রতিপক্ষের লোকজনই কার্যত প্রশাসনকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখাচ্ছে—এই বিষয়টি বোঝাতেই তিনি ওই ইশারা করেছিলেন।

শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে এক উঠান বৈঠকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খানের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডা হয়।

এ সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন,

‘আপনাদের এইরকম (বৃদ্ধাঙ্গুল) দেখায়। প্রশাসনে বসে আছেন, আপনারা খোঁজ নিন। সব জায়গায় সভা হচ্ছে। আপনি পারলে থামাতেন। আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়ে থামিয়েছি। নেক্সটাইম এই ভদ্রতাটা করবো না।’

তিনি আরও বলেন,

‘এক্সকিউজমি স্যার, এক্সকিউজ মি, মাফ করবেন। স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম। এটাই শেষ সময়। এর পর আমি আর এ বিষয়ে শুনবো না।’

এক পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে তিনি বলেন,

‘আজকে আমি শুনছি, কিন্তু ভবিষ্যতে আর শুনবো না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার। মাথায় রেখেন।’

এ সময় তিনি আরও মন্তব্য করেন,

‘আজকে যাদের কথা শুনে আপনারা চলছেন, শেখ হাসিনার সময়ে তারা কানে ধইরা খাটের নিচে থাকতো স্যার।

আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনও দল লাগে না।’

পরে সাংবাদিকদের রুমিন ফারহানা বলেন,

‘আমার প্রতিপক্ষের জোটের প্রার্থী ও তার লোকজন প্রতিদিন স্টেজ করে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করছে। আমাকে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিস্যু পেপার বলছে, নর্তকী বলছে। আমি অভিযোগ দিয়েছি। এর উত্তরে তারা বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছে, আমি বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকে স্যার সম্বোধন করে বলেছি।’

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন,

‘তারা (প্রশাসন) আমার প্রতিটি উঠান বৈঠকে আইনের অপপ্রয়োগ করছে। আমি একটি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি, কোনো স্টেজ করি না। এতে প্রতিদিন বাধা দিচ্ছে, জরিমানা করছে। আজ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর আগেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু তাদের কোনো বাধা দিচ্ছে না।’

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাবেশস্থলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে উপস্থিত সমর্থকরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বলেন,

‘আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। আমরা আশা করি, সবাই আইন মেনে চলবেন। ওনার যদি অভিযোগ থাকে, তবে উনি অভিযোগ দিতে পারেন।’

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি