image
ছ‌বি রু‌মিন ফারহানা‌র ভি‌ডি‌ও বার্তা থে‌কে নেওয়া

ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিন ফারহানাকে শোকজ; প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

মোহাম্মদ সাব্বির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২(সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত নোটিশে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে।

প্রশাসনের অভিযোগ

গত ১৭ জানুয়ারি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় রুমিন ফারহানার নির্বাচনী জনসভায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবকর সরকারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা সেখানে প্যান্ডেল করে জনসভা করছিলেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারার লঙ্ঘন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্যান্ডেল ও সমাবেশটি ভেঙে দেন। এ সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় প্রার্থী রুমিন ফারহানা উত্তেজিত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি করেন এবং উচ্চস্বরে হুমকি দেন। তিনি বলেন— “দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিস। আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না।” এ সময় উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করে একটি ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টির চেষ্টা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন রুমিন ফারহানা। প্রশাসনের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যেই রিটার্নিং কর্মকর্তা তার নিজের সই করা দাপ্তরিক চিঠির গোপনীয়তা ২৪ ঘণ্টাও রাখতে পারেন না, তার হাতে ৫ লক্ষ ভোটারের আমানত আমরা কীভাবে ভরসা করি? তিনি কী করে নির্বাচনের দিন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি নিজে প্রতিপক্ষ বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রতিদিন বড় বড় জনসভা ও মাইকিং করছেন, যা আমরা ভিডিও ফুটেজসহ জমা দিয়েছি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস কর্মকর্তারা দেখাচ্ছেন না।”

ভাইরাল ভিডিও ও ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানোর ব্যাখ্যা

১৭ জানুয়ারি রুমিন ফারহানার সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে হাতের ইশারায় ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখাতে দেখা যায়, যা নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মূলত আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একটি জনসভায় ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন। তিনি কেবল সেই ঘটনার কথা ম্যাজিস্ট্রেটকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,“উনারা যে আপনাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান এবং বলেন আপনারা কিছু করতে পারেন না— সত্যিই তো আপনারা কিছু করতে পারছেন না।”

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে স্বামী, ১০ আসনে স্ত্রী প্রার্থী

» আজ ফের ইসি ঘেরাও করবে ছাত্রদল

সম্প্রতি