জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা বহাল হওয়ায় সরব গঙ্গাচড়া

বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে লড়াই হবে ত্রিমুখী

প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

দেশের অন্যান্য এলাকার মতো শুরু থেকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণায় বিধিনিষেধ থাকাসহ জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভোটারদের আগ্রহে ভাটা পড়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত শনিবার জাতীয় পার্টির সেই প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর প্রার্থিতা বহাল হওয়ায় সরব হয়ে ওঠে গঙ্গাচড়া। সাধারণ ভোটাররা বলছেন জাতীয় পার্টির আসন বলে পরিচিত এই আসনটি কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেয়া হবে না।

গঙ্গাচড়া উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসন। তিস্তা নদীবেষ্টিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬২৯ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

এই আসনে স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী মশিউর রহমান যাদু এই আসনে জয়লাভ করেন। পরে তার মৃত্যুতে ছেলে শফিকুল গনি স্বপন উপনির্বাচনে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পর থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে থাকে। তিনবার এমপি নির্বাচিত হন মসিউর রহমান রাঙ্গা। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এখানে জয়ী হন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক আর স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। সে কারণে এবারে বিএনপি, জায়ায়াত ও জাতীয় পার্টির মধ্যে লড়াই হবে ত্রিমুখী। জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী ছাড়াও এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, এনসিপির আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আনাস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, আমার মনোনয়ন নিয়ে নানা নাটক করা হয়েছে। তারপরও কৃতজ্ঞ শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। গঙ্গাচড়া জাতীয় পার্টির এলাকা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে আশা করছি ভোটারদের ভোটে আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এদিকে, এবার একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও বিএনপি থেকে আলমবিদিতর ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এবার বিএনপির গণজোয়ার উঠেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৪০ বছর পর হারানো রংপুর-১ আসনটি উদ্ধার হবে।

রংপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রয়হান সিরাজী বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী বলে কথা নয়, খেলার মাঠে যা অংশীজন থাকবে, সেই খেলা মানুষ ততই উপভোগ করবে। সবার অংশগ্রহণে এবারে তেমন একটা নির্বাচন দেখতে চায় দেশের মানুষ। সবাইকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই আসনটি জামায়াতের জন্য খুবই উর্বর। ১৯৮৬ এখানে জামায়াতের প্রার্থী বিপুলভাবে জয়লাভ করলেও তাকে বিজয়ী ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তার পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে আসছে। যদিও রংপুরের মানুষ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ভালোবাসায় লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছিলেন। ক্রমান্বয়ে সেই জনপ্রিয়তাও হ্রাস পেতে থাকে। তবে এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই, মানুষ পরিবর্তন চায়। সে কারণে ভোটাররা জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেই ভোট দেবেন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে স্বামী, ১০ আসনে স্ত্রী প্রার্থী

» আজ ফের ইসি ঘেরাও করবে ছাত্রদল

সম্প্রতি