image

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রুমিন ফারহানার

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন তিনি। সোমবার, (১৯ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, সে প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি এমনভাবে বলেছি। আমার একটি অভিযোগের জন্য (যদি তা অপরাধ হয়) তিনবার শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি কীভাবে এমন একটি প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করব, যারা ইতোমধ্যেই পক্ষপাতদুষ্ট?’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে সমাবেশ করছে। স্টেজ করে মাইক ব্যবহার করে সভা করছে, গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সোমবার সকালে আমি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি।’

এদিকে রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক। গতকাল রবিবার রাতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

শোকজ বিষয়ে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে চিঠিটি পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার এ ধরনের চিঠি দিতে পারেন না এবং এ বিষয়ে আচরণবিধি সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।

এদিকে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগও করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবকর সরকারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অভিযোগ আনা হয়। গত শনিবার চিঠিটি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকি দেন। তার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যরা মারমুখী আচরণ করেন, এতে ‘মব’ সৃষ্টি হয়ে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেয়া হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চিঠিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও লিংকের কথাও উল্লেখ করা হয়।

রিটার্নিং অফিসার কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে জনসভা করেন এবং বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ সময় তার কর্মীরাও মারমুখী আচরণ করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ‘৫ আগস্ট’-এর কথা মনে রাখতে বলেছেন রুমিন ফারহানা। গতকাল রবিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করিÑ প্রশাসন, পুলিশ, কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট ঘটেছিল, তেমনি যে কোনো আসনেও ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।’

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন: “জাতি অবুঝ নয়”

সম্প্রতি