দেশের চলমান রাজনীতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সোমবার রাতে তার ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, কোনো ব্যাংক ডাকাত বা ঋণখেলাপিকে ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আইনপ্রণেতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
মিডিয়ার সমালোচনা
বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ১৫-২০ দিনের মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পর আমরা টি-শার্ট কোথা থেকে কিনি, রিকশা ভাড়ার টাকা কই পাই—তা নিয়ে টকশোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাছেঁড়া হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের প্রশ্ন কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে আর তোলা হচ্ছে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেও তার আয়ের উৎস, বড় রাজনৈতিক শোডাউন, যানবাহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অর্থায়ন নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমে কোনো আলোচনা নেই। তার অভিযোগ, এখন কারা প্রশ্নের মুখে পড়বে আর কারা পড়বে না — তা আর ‘নীতিনির্ভর নয়, বরং ব্যক্তি, সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটভেদে নির্ধারিত হচ্ছে’।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাদের ‘ভারতের চর’ বা ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলেছেন, তারাই এখন আবার তাদের প্রিয়পাত্র হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।”
‘শিয়ালকে মুরগির পাহারাদার বানানো যাবে না’
নির্বাচনে ‘ঋণখেলাপিদের’ মনোনয়ন দেওয়াকে ‘যুগান্তকারী নির্লজ্জতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হাসনাত বলেন, “আসলাম চৌধুরী বা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো শত শত কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের যখন সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা শিয়ালকে মুরগি পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আসলাম চৌধুরী ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়ন রক্ষার চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে যেন কোনো ঋণখেলাপি আইনসভার চৌকাঠ মাড়াতে না পারে।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার পেছনে ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আপনারা জাতীয় নির্বাচন চান কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দেন। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা। সাস্টের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মব কালচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
কর্মীদের প্রতি বার্তা: ‘গোলামি বর্জন করুন’
রাজনৈতিক দলের সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আপনারা যাদের পেছনে খাটছেন, সেই নেতারা আপনাদের ‘চাঁদাবাজ’ মনে করে। আপনি নেতার জুতা চাটতে চাটতে জীবন শেষ করবেন, আর নেতা বিদেশ থেকে তার সন্তানকে এনে আপনার ঘাড়ের ওপর বসিয়ে দেবেন। চোর ও ব্যাংক ডাকাতদের পেছনে ১০০ বছর গোলামি করে বাঁচার চেয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক মিনিট বাঁচা অনেক বেশি সম্মানের।”
‘নতুন সালমান রহমান হতে দেব না’
হাসনাত আব্দুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা আর কোনো নতুন সালমান এফ রহমান বা আজিজ খান দেখতে চাই না। যারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক লুটে করে সিঙ্গাপুরে ধনী হতে চায়, তাদের পথ এবার বন্ধ করা হবে। জনগণ এবার সচেতন, তাঁরা এই ব্যাংক ডাকাতদের প্রত্যাখান করবেই।”
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি: আইজিপি