ভোটের প্রচারে নামার আগে রাজধানীতে নিজের নির্বাচনী আসনে কড়াইল বস্তিবাসীদের কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান। সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যেকের জন্য ফ্ল্যাট ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করাসহ দিলেন নানান প্রতিশ্রুতি। মঙ্গলবার, (২০ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে টিঅ্যান্ডটি কলোনির মাঠে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ প্রতিশ্রুতি দেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়াও চান। অন্যদের মতো দালানে থাকার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে বস্তিবাসীর থাকার বর্তমানের কষ্ট দূরের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্য বস্তিতে দুটি স্কুল ও খেলার মাঠ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আমি একটা কথা বলতে চাই, আমি জানি না এটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কিনা, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কিনা। আমি আল্লাহ রহমত নিয়ে বলতে চাই, আপনাদের যদি প্রত্যেকের দোয়া থাকে, আল্লাহ যদি রহম করেন আমি এখানে কয়েকটি কাজ করতে চাই যদি উনি আমাকে সেই সুযোগ দেন।
‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহ রহম করলে আপনারা এখানে যে থাকার কষ্ট করছেন সেই কষ্টটির আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই। এখানে উুঁচ উুঁচ বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই। এখানে যে মানুষগুলো থাকেন তাদের নাম রেজিস্ট্রি করে তাদের প্রত্যেকের নামে আমরা ফ্ল্যাট দিতে চাই। এখানকার যারা অনেক বছর আছেন তাদের আমরা সেগুলো দিতে চাই যাতে করে তাদের ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। সব কিছু নির্ভর করছে আপনাদের দোয়ার ওপরে।’
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দোয়া শুরুর আগে দুই একটা কথা বলতে চাই। আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে। এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখেছেন। আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান, আমি আমার দলের একজন কর্মী।
‘আজকে হাজির হয়েছি একটা দোয়া অনুষ্ঠানে। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি, এই রাজনীতিটা কাদের জন্য? এটা আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য। আপনাদের দৈনন্দিন জীবন কীভাবে একটু ভালো হতে পারে সেটি হচ্ছে আমাদের কাজ, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটি হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। তাই আপনাদের কাছে আমি দোয়া চাই, আল্লাহর রহমত চাই।’
কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের কয়েকজনের বক্তব্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ এখানে হাজার হাজার মা-বোনেরা বসে আছেন। সারাদেশে মা-বোনেরা কষ্টের মধ্যে আছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন আমরা সেই মা-বোনদের জন্য, তারা যাতে স্বচ্ছলভাবে চলতে পারেন তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই যাতে করে মা-বোনদের উপকার হয়। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিতে চাই।’ আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদেরও সন্তান আছে, আমারও সন্তান আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে আজকের সন্তানরা। আমরা চাই, দালানে যে থাকে তার সন্তান যেমন শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে, ঠিক একইভাবে কড়াইল বস্তিতে যে মানুষগুলো থাকে তাদের সন্তানেরাও সেই সুযোগ-সুবিধা পাবে।
‘তাদের সন্তানরাও যাতে লেখাপড়ার সুযোগ পায়, তারা যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, তারা যাতে বিদেশি ভাষা শিখতে পারে, তাদের সন্তানরাও যাতে চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে আল্লাহ যদি রহম করেন আমরা আপনাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আপনাদের জন্য। এর আগেও বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, বিএনপি মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে আমরা আমাদের সাধ্য নিয়ে চেষ্টা করেছে সেই জবাব রক্ষা করার জন্য।’ কড়াইল বস্তিবাসী আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, আমিনুল হকসহ অন্য নেতারাও ছিলেন।
‘আমি আপনাদের এলাকার সন্তান’
খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া শুরুর আগে বস্তিবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের অনেকে এই এলাকায় বড় হয়েছেন। আমি কিন্তু আপনাদের এলাকার সন্তান। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে। আপনারা কম-বেশি সবাই জানেন স্বৈরাচারের সময়ে কীভাবে যে বাড়িতে দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা থাকতাম সেই বাড়িটিকে কীভাবে ভেঙে চুরে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে।’
‘তারপরও আজও আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে এখন আমি উঠেছি গুলশানে। আপনাদের আরও কাছাকাছি, আপনাদের পাশাপাশি। কাজেই আমি আপনাদেরই সন্তান। ‘এই এলাকার মানুষ আমরা যদি সবাই আপনাদের যে রকম অনেক মানুষ এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছেন আমিও এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি।’ কড়াইলবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের ওপরে কেউ যদি কষ্ট দিয়ে থাকে কেউ যদি অত্যাচার নির্যাতন করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।’
‘আপনাদের কাছে থেকে কেউ যদি জোর করে এই বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, গ্যাসের বিল জোর করে নিয়ে থাকে এই যে একটু আগে একটা পরিকল্পনার কথা বলেছি ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে আল্লাহ যদি রহম করেন আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারলে কেউ জোর করে আপনাদের কাছ থেকে কিছু নিতে পারবে না।’ রাতে বনানীর চেয়ারপারসনের বাড়িতে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আরেকটি দোয়া মাহফিলেও যোগ দেবেন তারেক রহমান। আগামীকাল সিলেটে হয়রত শাহ জালাল (রহ) ও হয়রত শাহ পরানে (রহ) মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করবেন তারেক রহমান।