নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, গণভোট নিয়ে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায়: সিপিবি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা। গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

মঙ্গলবার, (২০ জানুয়ারী ২০২৬) পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে দলটির নেতারা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সকালে রাজধানীর পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদি নির্মাণ করে ২০০১ সালে নিহতদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মোহাম্মদ শাহ আলম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসলাম খান।

সমাবেশে সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়েছিল ধর্মান্ধ গোষ্ঠী অগণতান্ত্রিক লুটেরা শাসকগোষ্ঠী। দেশে প্রগতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এ হত্যাকা- ঘটানো হয়। বর্তমানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, নির্বাচন ঘিরে জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকা রাখছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারে গণভোটও হবে একই সঙ্গে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচার করা নিয়ে আপত্তি তুলেছে জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা দল সিপিবি।

সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাজার, ছায়ানট, উদীচী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ধারার বিপরীতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। ফলে তারা আরও আস্ফালন করছে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করেছিল। লুটপাট, সন্ত্রাস, গুম, খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন ফেরত আসা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক উত্থান ঠেকাতে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহ আলম বলেন, দেশবিরোধী শক্তি কমিউনিস্ট পার্টিকে ধ্বংস করার বারবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টিকে ধ্বংস করতে পারেনি। বর্তমানে সিপিবি অফিসে হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিপিবি সব অপশক্তিকে মোকাবিলা করবে।

বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে সিপিবি ছাড়াও বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, সাপ্তাহিক একতা, হকার্স ইউনিয়ন, ট্যানারী শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই অনুষ্ঠান।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, সিপিবির খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিকনেতা আবদুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিকনেতা আবুল হাসেম এবং মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলার ১১টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৭ জন

» দেশের অর্থনীতি নিচে নেমে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে: আমীর খসরু

সম্প্রতি