ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলার ১১টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৭ জন

জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে জেলার ১১টি আসনে মোট ৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ।

আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা

জেলার ১১টি আসনের প্রার্থীরা হলেন, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (মুক্তা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জিল্লুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক এবং সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) পার্টির মো. আ. রাজ্জাক। এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন মোহাম্মদ সালমান ওমর।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ৯ জন প্রার্থী। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার হাসান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মাওলা ভূইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ এবং জাতীয় পার্টির মো. এমদাদুল হক খান। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৭ জন। শেষ দিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. বদরুজ্জামান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির এম. ইকবাল হোসেইন, ইসলামী আন্দোলনের মো. শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর এ.কে.এম. আরিফুল হাসান এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মো. আবু তাহের খান। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আহাম্মদ তায়েবুর রহমান।

জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ময়মনসিংহ-৪ (ময়মনসিংহ সদর)। এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোস্তাক আহম্মদ। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল, জাতীয় পার্টির মো. মূসা সরকার, কমিউনিস্ট পার্টির এমদাদুল হক মিল্লাত, গণসংহতি আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. হামিদুল ইসলাম এবং সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর শেখর কুমার রায়।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মো. মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. রফিকুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৯ জন প্রার্থী। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল করিম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন বিএনপির মো. আখতারুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর মো. কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের মো. নূরে আলম সিদ্দিকী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন, আখতার সুলতানা, তানভীর আহমেদ রানা। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) মো. সাইফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৯ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কুদ্দুস ও খেলাফত মজলিসের মো. নজরুল ইসলাম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেলেন বিএনপির ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. আছাদুজ্জামান, জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, আবুল মুনসুর ও জয়নাল আবদীন।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনজুরুল হক হাসান ও খেলাফত মজলিসের আহাম্মদ হোসেন ভূঞা। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেলেন বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ইসলামী আন্দোলনের শাহ নূরুল কবির, এলডিপির মো. আওরঙ্গজেব বেলাল, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান ভূঞা।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেলেন বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ, গণফোরামের মো. লতিফুল বারী (হামিম), ইসলামী আন্দোলনের মো. সাঈদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শামসুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর এ.আর. খান, হাসিনা খান চৌধুরী, পিন্টু চন্দ্র বিশ্বশর্মা।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে সর্বাধিক ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন আলমগীর মাহমুদ, আল ফাতাহ মো. আ. হান্নান ও মো. মুশফিকুর রহমান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেলেন বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইসমাঈল, জাতীয় পার্টির মো. আল আমিন (সোহান), ইসলামী আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ বেলালী, এলডিপির সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাইফুস সালেহীন, গণসংহতি আন্দোলনের এ.কে.এম. শামসুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান। এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) এই আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেলেন বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাহিদুল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. মোস্তফা কামাল এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

ময়মনসিংহের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর প্রতীক বরাদ্দ শেষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, গণভোট নিয়ে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায়: সিপিবি

» দেশের অর্থনীতি নিচে নেমে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে: আমীর খসরু

সম্প্রতি