চট্টগ্রামের কয়েকটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে নির্বাচন করতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হলেও জামায়াতের প্রার্থীরা জোরপূর্বক তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করছে।
‘১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এনসিপির একমাত্র আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ’
জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপিকে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র একটি আসন দেয়া হলেও সেই আসনে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় স্থানীয় এনসিপি নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের একগুঁয়েমির কারণে এবি পার্টির এক কেন্দ্রীয় নেতা জোটের বাইরে গিয়ে অন্য দল থেকে নির্বাচন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেয়া হলে জোটের স্বার্থে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েতউল্লাহ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তবে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুনাছের আহমেদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হলেও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির অ্যাডভোকেট মো. নেজামউদ্দীনকে জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের কর্মী-সমর্থকরা জোরপূর্বক মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই আসনে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেলেও জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর তাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা না করায় তিনি নিজ দল থেকে ‘কলম’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপির এম. এয়াকুব আলী মনোনয়ন পেলেও জামায়াত প্রার্থী ফরিদুল আলম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইমরানকে জোটের প্রার্থী করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দলীয় লোকজন নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করেন।
এ বিষয়ে নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুফতি মুসা বিন ইজাহার বলেন, জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে জামায়াত যেভাবে শরিকদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করছে, তা জোটের ফোরামে আলোচনা হবে।’
জোটে থাকা লাভজনক কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করার কথা বলেন।
এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমি জোটের প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এবি পার্টিকে মাত্র তিনটি আসন দিয়ে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে জনতার দল থেকে নির্বাচন করছি।’
চট্টগ্রাম-১২ আসনের এলডিপি প্রার্থী এম. এয়াকুব আলী বলেন, ‘জোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ায়নি। এটি এলডিপির জন্য অপমানজনক। শরিকদের আসন না ছাড়লে জোটে থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে।’
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘আমাকে ও আমার পরিবারকে দিন-রাত চাপ দেয়া হয়েছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হয়েছে।’
এদিকে জামায়াতের আসন না ছাড়ার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যানারে লেখা ছিল- ‘১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চট্টগ্রামে এনসিপির একমাত্র আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েতউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এনায়েতউল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পর শরিক দলের আসন দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
তীব্র সমালোচনার মুখে জামায়াত প্রার্থী আবু নাছের আহমেদ নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘যদি দেখা যায় কোনো আসনে শরিক দলের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় হবে, তাহলে বিজয়ের সম্ভাবনা আছে এমন প্রার্থীকে সুযোগ দেয়া উচিত। বিষয়টি জোটের ফোরামে আলোচনা হবে।’
মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কেউ মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতাম। যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, তারা সবাই স্বেচ্ছায় এসে স্বাক্ষর করে আবেদন করেছেন।’