প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নাছের। বুধবার, (২১ জানুয়ারী ২০২৬) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা মোরশেদুল বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তে জোটের ঐক্যের স্বার্থে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আবু নাছের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আবু নাছের মাঠঘাট চষে বেড়িয়েছেন। গণমানুষের সঙ্গে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন, শুধু জামায়াত নয়, সাধারণ জনগণ, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্নপন্থি যারা আছেন, সবাই তাকে গ্রহণ করেছেন।’
বুধবার চট্টগ্রাম- ৮ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করেন। আগের দিন শেষ হয় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। ব্যালটে প্রার্থির নাম ও বরাদ্দকৃত মার্কা থেকেই যায়।
প্রত্যাহারের সময়সীমা ও প্রতীক্ক বরাদ্দের পর সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন উনার অনুপস্থিতিতে প্রত্যাহার করা যায়নি। জামায়াত সুশৃঙ্খল আদর্শিক সংগঠন। জামায়াত আমিরসহ অন্য নেতাদের ভূমিকায় জোট গঠন হয়েছে। জোটের ঐক্যের স্বার্থে সংগঠনের সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইলাম ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি বদরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া, বোয়ালখালী উপজেলা আমির খোরশেদুল আলম ও বায়েজিদ থানা আমির জাকির হোসেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসন গঠিত বোয়ালখালী উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৩-৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াত ইসলামীর আবু নাছের, এনসিপি প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফসহ ৭ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ গত মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
এ আসনে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবু নাছের নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।