image
বুধবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ -সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, মূল লড়াই বিএনপি-জামায়াতের

সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা-১২ আসনে, সবচেয়ে কম পিরোজপুর-১ এ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার, (২১ জানুয়ারী ২০২৬) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মোট ৩০৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ ছাড়া) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৭ জনে।

এবার অর্ধশত দল ভোটে রয়েছে, আর অধিকাংশই দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক। দলগুলোর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষে, জামায়াত ইসলামী দাঁড়িপাল্লায়, জাতীয় পার্টি লাঙলে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলির প্রতীক নিয়ে লড়ছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুটি আসন থেকে। একটি ঢাকা-১৭, অন্যটি বগুড়া-৫ আসন। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ থেকে এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী রুমিন ফারহানা পেয়েছেন হাঁস। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন ভোটের লড়াইয়ে আছেন; আর সবচেয়ে কম দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পিরোজপুর-১ আসনে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবার আইন সংস্কার করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও একক প্রার্থী থাকলে তাকে লড়তে হবে ‘না’ ভোটের সঙ্গে। পিরোজপুর-১ আসনে এবার তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ আসনে দুজন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। দুজনই বাছাইয়ে বৈধ হলেও একজনের বিরুদ্ধে আপিল হয়; কিন্তু নির্বাচন কমিশন আপিল নামঞ্জুর করায় দুজনই লড়াইয়ে টিকে যান।

নির্বাচন কমিশনের একীভূত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪, গাজীপর-২ আসনে রয়েছেন ১২ জন করে।

১১ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ এবং খাগড়াছড়ি আসনে। ১০ জন করে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর- ৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, টাঙ্গাইল-৪, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১ আসনে।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে থেকে দেশব্যাপী ২৯৮টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে দুই হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এরমধ্যে ৬৩৯ জন রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।

সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন হাইকোর্ট স্থগিত করে। পরে আপিল বিভাগ ১২ ফেব্রুয়ারিই সেখানে নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। তবে এ দুটি আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি। বাকি ২৯৮টি আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৯৬৭ জন।

বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

নির্বাচনের মাঠে আছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, জাতীয় পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং সিপিবিসহ অর্ধশত দল।

নির্বাচনে যেসব দল অংশ নিচ্ছে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন (বিএনএম)।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯টি দল মাত্র ১-২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল।

বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর মধ্যে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। যে আসনগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থী নেই সেগুলোতে সমঝোতার ভিত্তিতে শরিকদের প্রার্থী রাখা হয়েছে। আবার অনেক আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীসহ ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য গড়েছে। যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী নেই সেখানে নির্বাচনী ঐক্যে থাকা শরিক দলের প্রার্থী আছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ। সে হিসেবে এবার প্রার্থীদের প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়রি সকাল সাড়ে ৭টার আগে বন্ধ করতে হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একইদিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

» নির্বাচনের প্রার্থিতা চাইতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

» ময়মনসিংহ-২ আসনে, কারাগারে থাকা সারোয়ার পেলেন ঘোড়া প্রতীক

» সিলেটে তারেক: মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রচারণা শুরু

» ভোটের মাঠে ১৯৬৭ প্রতিদ্বন্দ্বী, শেষদিনে ৩০৫ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার

» চট্টগ্রাম-৮: প্রতীক বরাদ্দের পর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

সম্প্রতি