আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিনে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় এই চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার, (২১ জানুয়ারী ২০২৬) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পর আজ থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। যদিও অধিকাংশ প্রার্থী দলীয়, তবুও শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশনায় নতুন তফসিল হওয়ায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের হিসাব আপাতত এই ১ হাজার ৯৬৭ জনের তালিকার বাইরে রয়েছে। ওই দুই আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২৬ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২৭ জানুয়ারি।
এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার শেষদিন পর্যন্ত ৩০৫ জন সরে দাঁড়ানোয় এখন ভোটের মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।
দেশের বিভিন্ন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপি ২৯৮টির মধ্যে ২৮৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে কিছু আসনে ছাড় দিয়েছে তারা। দলীয় সূত্র জানায়, গণঅধিকার পরিষদকে ২টি, জমিয়তে ওলামা ইসলামের দুই অংশকে ৫টি ও বাকি আটটি দলকে ১টি করে আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে কেউ কেউ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে।
দলীয় সূত্রমতে জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। জামায়াতসহ ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য গড়েছে। বেশকিছু আসনে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আছে ২১৫টি আসনে। এই ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলটির ৩০ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৯টি, খেলাফত মজলিস ১৯টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৫টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে তাদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫৬টি নির্ধারিত প্রতীক থেকে পছন্দের প্রতীক বেছে নেন। একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী একই প্রতীক চাইলে সমঝোতা বা লটারির মাধ্যমে তা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিকে সতর্ক করেছে ইসি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। প্রার্থীরা যেন আচরণবিধি মেনে চলেন, সেদিকে কড়া নজরদারি থাকবে। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়।
২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১ হাজার ৯৭০ জন। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৬১ জন। সেই তুলনায় এবার প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে এবং নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে বলে মনে করছে কমিশন।