নেত্রকোনা-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া এবং সহসভাপতি ও ৬নং খারনই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নোটিশ অনুযায়ী, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়েছে- অভিযুক্তরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিমূলক লিফলেট বিতরণ করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। পাশাপাশি ভোটারদের ভয়ভীতি ও প্রভাবিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বিচারিক কমিটির মতে, এসব কর্মকা- সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি-১৮ (নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা) এবং বিধি-১৫(ঘ) (ভোটারদের প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ কারণে আগামী ২৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, কার্ড বিতরণ কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস করি।

অভিযুক্ত সহসভাপতি মো. ওবায়দুল হক বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের সেবা করে আসছি। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো কাজ আমি করিনি। আইনি প্রক্রিয়ায় হাজির হয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দল। আমাদের কোনো নেতা যদি ব্যক্তিগতভাবে ভুল করে থাকেন, আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। তবে আমরা মনে করিÑ নির্বাচনের মাঠে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টাও থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইউএনও ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ আছে কিনাÑ এই প্রশ্ন জনমনে তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা একই অভিযোগে একাধিক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নোটিশ জারির ঘটনায় কলমাকান্দা-দুর্গাপুর এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- এটি কি নিছক আইন প্রয়োগ, নাকি নির্বাচনী মাঠে প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

এখন সব নজর ২৪ জানুয়ারির শুনানির দিকে। ওইদিনের ব্যাখ্যা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, অভিযোগের পরিণতি কোন দিকে গড়ায়।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» শরীয়তপুরের ৩টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ২১ জন

» জামায়াত ২১৫ আসন রেখে জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করেছে

» জনগণের পরামর্শে দেশ গড়ার অঙ্গীকার, বিএনপির ৫ বিশেষ নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা

সম্প্রতি