আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের সাতটি জেলায় সমাবেশ শেষ করে শুক্রবার,(২৩ জানুয়ারী ২০২৬) ভোরে রাজধানীতে ফেরার পর তিনি ঢাকা-১৭ নিজ আসনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগ দেন। এর আগে নরসিংদীতে এক সমাবেশে তিনি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘ দুই দশক পর আজ রাতে তিনি চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল সেখানে ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
.
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান
গত ১৬ বছরে বিগত সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি, বরং গুম-খুন ও লুটপাট চালিয়েছ
শুক্রবার রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই জনসভায় সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা, এবং বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা হলুদ টুপি ও ধানের শীষ আঁকা গেঞ্জি পরে ‘ভোট দিবো কীসে, ধানের শীষে’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করেন। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কামাল মাহমুদ এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নরসিংদীর বাসাইল পৌর শিশুপার্কে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরে তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এই পরিকল্পনার আওতায় তিনি শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সব বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার এবং তাদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো খাদ্য অথবা নগদ অর্থ সহায়তা পাবে, যা তাদের সংসার পরিচালনায় সহায়ক হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে তারা কোনো উন্নয়ন করেনি, বরং গুম-খুন ও লুটপাট চালিয়েছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, একটি পক্ষ ‘জান্নাতের টিকিট’ বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।
প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এটি হবে দলীয় প্রধান হিসেবে তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর এবং প্রায় ১৪ বছর পর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির কোনো দলীয় প্রধানের ভাষণ। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির তৎকালীন মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। গত বছরের শেষে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর।
আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় হোটেল রেডিসনে তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি ডায়ালগ’ শেষে বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিবেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশে অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ভঙ্গ হবে। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেরার পথে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পথসভায় অংশ নেবেন।