image

আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে, প্রতিরোধে সামাজিক ঐক্য প্রয়োজন: মির্জা আব্বাস

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লালিত চাঁদাবাজি ও মাদক সন্ত্রাস বন্ধে ৫ আগস্টের পর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তবে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসতেই আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে এবং এতে প্রায় সব দলই জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার, (২৪ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস নিজেও এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র।

চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর চাঁদাবাজির যে পরিচর্যা করা হয়েছে, মাদক ও সন্ত্রাসকে লালন করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দুই মাস চাঁদাবাজমুক্ত করতে আমি স্পেশাল টিম করেছিলাম। হটলাইন খুলেছিলাম। দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছিলাম। চাঁদাবাজির খবর পেলেই আমরা পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দুই মাস আমার এলাকা শান্ত ছিল।’

সাবেক এই মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “যখনই দায়িত্ব প্রত্যাহার করলাম, তখন পুলিশও অফ হয়ে গেল। আবার শুরু হলো চাঁদাবাজি। এতে প্রায় সব দলই জড়িত হলো। আমি যাদের নিয়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করবো, তারা চায় সংস্কার। তারাও জড়িত এই চাঁদাবাজিতে।’

মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করে দিতে হবে।’

বক্তব্যে মির্জা আব্বাস ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ’২৪-এর আন্দোলনে আমিসহ বিএনপির সব নেতাকর্মী অংশ নিয়েছে। তবে ’৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধ আর ’২৪ এক করা যাবে না। কারণ ’৭১-এ স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছে আর ’২৪-এ হয়েছে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে আমরা অনেক সন্তান, ভাই এবং পিতাহারা হয়েছি। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’

বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই লেখাপড়া ধ্বংস করে দেয়া হয়। আমাদের ছেলেদের ধ্বংস ও নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী এবং একটি দেশ তৎপর।’

নতুন প্রজন্মের উন্নত বিকাশে খেলাধুলা ও বই পড়ায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া মাদকের মতো একটি মারাত্মক রোগ। এটি মাদকের মতোই সন্তানদের বিপথগামী করছে।’ অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং এলাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» ড. মঈন খান ও গোলাম সারোয়ারের প্রচারণায় মুখর নেতাকর্মীরা

» প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দেয়া ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

» শরীয়তপুরে বিএনপিতে যোগদানের পর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের বাড়িতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

» পঞ্চগড়-১ আসন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এনসিপির সারজিস ও বিএনপির নওশাদকে শোকজ

» ছয় সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়ে তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহার

» শিশুদের সঠিক বিকাশে প্রাথমিক শিক্ষকদের আরও দক্ষ করার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

সম্প্রতি