তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চান তৃণমূল কর্মীরা
এয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে থেকে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় আরেক প্রার্থী মাঠে থাকায় নির্বাচনে ধানের শীষের ভোট কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা।
এবার জাতীয় নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে (সদর ও গজারিয়া) বিএনপির মনোয়ন পেয়েছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারাণা চালাচ্ছেন তিনি।
মনোনয়ন বঞ্চিত মো. মহিউদ্দিন ভোটের মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। কর্মী-সমর্থক নিয়ে ফুটবল প্রতীকে প্রচারণায় নেমেছেন তিনি।
বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮ জন
কামরুজ্জামান রতন ও মো. মহিউদ্দিনসহ মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাকিরা হলেন- কাস্তে প্রতীকে কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন, কোদাল প্রতীকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. আরিফুজ্জামান দিদার, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান, আনারস প্রতীকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিস মোল্লা ও রিকশা প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নূর হোসাইন নুরানী।
স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, একই দলের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কর্মী ও সমর্থক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, একাধিকবার সংঘাত দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করছে।
একাধিক কর্মী সংবাদকে বলেন, নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় করা জরুরি। এজন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
কোন পক্ষে কারা
সরেজমিন অনুসন্ধান এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের পক্ষে প্রচারণায় আছেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিদ্দিকুল্লাহ ফরিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ, জেলা বিএনপির সদস্য ইসহাক আলী, ভিপি মাছুম, মাসুদ ফারুক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মুজাম্মেল হক মুন্না, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল রহমান সাইদ, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম পিন্টু, জেলা ছাত্র দলের সদস্য সচিব জামাল ভূঁইয়া, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাজির সিকদার, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রাসেল দেওয়ান ও সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন সরকার, উপজেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান । উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা আইবি, উপজেলা জাসাস সভাপতি সোলাইমান প্রধানসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে প্রচরণায় নেমেছেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ও ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়াজি (ভিপি মোহন), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য বোরহান দেওয়ান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মকবুল আহমেদ রতন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিএস অহিদুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রিফাত প্রধান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাদিম আহমেদ অপুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
সব ঠিক হয়ে যাবে
বিএনপিতে বিভক্তির কারণে ভোটে প্রভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য ও গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী সংবাদকে বলেন, “মুন্সীগঞ্জ জেলা ঐতিহাসিকভাবে ধানের শীষের ঘাঁটি। আমরা বিশ্বাস করি, একজন বিএনপি সমর্থক কখনো অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিতে পারেন না।”
ইসহাক আলী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক- সবাই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন। খুব শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা সবাই দেখতে পাবেন।’
বিএনপিতে বিভক্তি প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের প্রচারণায় থাকা গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুর রহমান শফিকের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।