image

মানিকগঞ্জের ৩টি আসনের দুটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

মো লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ

ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচারণা ও জোটগত সমীকরণে জমে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জেও বইছে নির্বাচনী উত্তাপ।

প্রথমবারের মতো নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে এই প্রত্যাশায় তরুণ, তরুণীদের পোস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে উঠেছে। হাটে, বাজারে, চায়ের দোকানে, কর্মস্থলে নির্বাচনী আলাপে জমে উঠেছে।

আগে মানিকগঞ্জে ছিল ৪টি আসন। এখন ৩টি সংসদীয় আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই তিন আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাতটি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ জেলার তিন আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের বাইরে জোটের কাউকে মনোনয়ন দেয়া না হলেও দুটিতেই বিএনপির দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে ২ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এদের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তারা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

চারদলীয় জোট থাকাকালীন সময়ে সর্বশেষ ২০০১ সালে এ জেলার তৎকালীন চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও ২০০৮ সালের পর আর কখনো কোনো নির্বাচনে জোট থাকা সত্ত্বেও কেউ বিজয়ী হয়নি।

মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর

ও শিবালয়)

যমুনা ও পদ্মা নদীবেষ্টিত দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে আলোচিত। এক সময় জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পাশাপাশি সরব জামায়াতও।

এই আসনে ১৯৯১-২০০৮ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে বিএনপি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও হারুনুর রশিদ মুন্নু দীর্ঘ সময় এ আসনে প্রভাব বিস্তার করেন।

তিনটি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ভোটার। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬ জন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর দীর্ঘদিন এ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্ম করে পরিচিত। কিন্তু দলীয় তিন গ্রুপের দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত তিনি। জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেলক হক তোজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির তৃণমূলের বিরাট একটি অংশ তোজাম্মেল হকের সঙ্গে কাজ করছে।

আর বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র খন্দকার ড. আকবর হোসেন বাবলু দলীয় মনোনয়ন না পাওয়াতে বিরাট একটি অংশ দলীয় প্রার্থীর বিরোধী হয়ে উঠেছে।

জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এনডিএফ নেতা ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিক নতুন প্রার্থী।

এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন, জনতা দলের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর)

সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা এবং সদর উপজেলার হাটিপাড়া ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-২ আসনে। আশির দশকে জাতীয় পার্টির গোলাম সারওয়ার মিলন টানা দুইবার নির্বাচিত হলেও নব্বইয়ের পর থেকে এ আসনে বিএনপির প্রভাব ছিল প্রবল। বিএনপির শামসুল ইসলাম খান ও মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ছিলেন প্রভাবশালী নেতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে সাড়ে ৪ লাখের বেশি ভোটার।

এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। জামায়াতের ১০ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাদ্দিস শেখ মো. সালাহ উদ্দিন। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আব্দুল মান্নান ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

# মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা)

সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার আলোচিত আসনগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পর্যায়ক্রমে জয়ী হয়েছেন।

১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মাফিজুল ইসলাম খান কামাল, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আবদুল মালেক, ১৯৯১ সালে বিএনপির নিজাম উদ্দিন খান ও ২০০১ সালে হারুনুর রশিদ খান মুন্নু জয়ী হন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের জাহিদ মালেক স্বপন।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ৫৬০ জন। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা। তার বাবা প্রয়াত হারুনুর রশিদ খান মুন্নু ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের সমর্থনে এমপি হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন।

তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত না মেনে এখানে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন । বিএনপির একটি অংশ তাকে নিয়ে ভোট প্রার্থনা করে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান ১৯৭৩ সালে এমপি হয়েছিলেন। এরপর সব সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও আর কখনো জয়ী হতে পারেননি। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা, অ্যামেরিকা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম খান (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূর, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সামসুদ্দিন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি