আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার পর্ব শেষে ভোটের লড়াইয়ে টিকে আছেন ১ হাজার ৯৯১ প্রার্থী। কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে এদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬৫ জন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো। এ বিষয়ে অধিকাংশ দল একমতও হয়েছিলেন। অথচ বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।
দেড় দশকে সর্বনিম্ন নারী প্রার্থী
এবার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আনুপাতিক হার মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি। অথচ নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’ না হলেও নারী প্রার্থীর আনুপাতিক হার এবারের চেয়ে বেশি ছিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সর্বোচ্চ ৯৪ জন প্রার্থী, আনুপাতিক হারে যা ছিল প্রায় ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ জন। সেবার প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৮০ শতাংশের মতো। দশম (২০১৪) নির্বাচনে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ নারী প্রার্থী ছিলেন।
৩০টির বেশি দলে নেই নারী প্রার্থী
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে এর মধ্যে অন্তত ৩০টি দলই কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় দলও আছে। এছাড়া বাকিদলগুলোর মধ্যেও নারী প্রার্থী আশানুরূপ নয়।
কোন দলে কতজন নারী প্রার্থী
বিএনপি: এবারের ভোটে ৩০০ আসনে বিএনপির মোট ২৮৮ জন চূড়ান্ত হয়েছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ১০ জন। অর্থাৎ তা মোট প্রার্থীর ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী দুই জন। অর্থাৎ তা ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী): এই দলটি থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে ২৯ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। সে হিসেবে তা ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১৯২ জন; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬ জন। মোট সংখ্যার ৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১০ দলীয় জোটের হয়ে সারা দেশে দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও কোনও নারীকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি।
স্বতন্ত্র: এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থী ১৮ জন; যা মোট সংখ্যার ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।
এছাড়া অন্যান্য যে দলগুলো থেকে নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) একজন; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) চার জন; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ছয় জন; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির একজন; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ছয় জন; গণসংহতি আন্দোলনের চার জন; বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই জন; গণঅধিকার পরিষদের তিন জন; গণফোরামের তিন জন; বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একজন; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) একজন; বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন; আমজনতার দলের একজন; বাংলাদেশ লেবার পার্টির একজন এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের একজন।
এই হিসেবে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ।
প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হয়েছিল।
অপরাধ ও দুর্নীতি: সাবেক এমপি রুবিনা ও তার স্বামীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ
রাজনীতি: দেড় দশকে সর্বনিম্ন নারী প্রার্থী
শোক ও স্মরন: সাংবাদিক প্রশান্ত ঘোষাল মারা গেছেন
অপরাধ ও দুর্নীতি: অভিনেত্রী ঊর্মিলাসহ তিনজনের সম্পদের হিসাব চায় দুদক
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্ত্রী-সন্তানসহ আছাদুজ্জামান মিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ