আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি দলের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আর ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখে অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে কারণেই ভোটাধিকার হরণে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জনসভা শেষে রাত দুইটার দিকে কাঁচপুরের জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান।
বালুর মাঠের জনসভায় তিনি প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য দেন। এসময় তিনি বলেন, ১৫–১৬ বছর ধরে দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তালিকা করে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত একটি ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশক সরকারিভাবে সরবরাহ করা হবে। বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে বলেন, জেলাভিত্তিক কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে ফলাফল ঘোষণার আগপর্যন্ত নেতা–কর্মীদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ। এর আগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।
বিএনপির চেয়ারম্যান চতুর্থদিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন চট্টগ্রাম থেকে। রোববার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে মহানগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশস্থলের মঞ্চে হাজির হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। শুরুতে আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘অনেরা ক্যান আছন।’ তখন নেতা-কর্মীরা ‘ভালা আছি বলে উত্তর দেন। চট্টগ্রামের সঙ্গে তারেক রহমান ও তার পরিবারের আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে বিকেলে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। ফেনীকে নিজের ‘নানার বাড়ি’ উল্লেখ করে বলেন, ফেনী ও বৃহত্তর নোয়াখালীর সঙ্গে আমার আত্মার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।’ ফেনীবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সেখানে একটি মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ‘পল্লী চিকিৎসকের’ আদলে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ারও অঙ্গীকার করেন।
ফেনীর সমাবেশের পর কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকার জনসমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজিসংলগ্ন ফুলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া ‘ডিগবাজি মাঠে’ নির্বাচনী সমাবেশে সন্ধ্যা ৭টায় উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছান রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সদরের বিশ্বরোড কেন্দ্রীয় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে এসে পৌঁছান রাত ১২টা ২৭ মিনিটে।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। বেলা ১২টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজার, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় হবিগঞ্জ, রাত সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, রাত সোয়া ১২টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেন।
রাত ৩টায় নরসিংদীর পৌর পার্কসংলগ্ন মাঠের জনসমাবেশে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে ভোর ৪টা ১৬ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের একটি মাঠে প্রথম দিনের শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ঢাকায় ফিরেছিলেন। শেষ কয়েকটি জনসমাবেশে ভোর পর্যন্ত নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য তারেক রহমানকে দুঃখ প্রকাশ করতেও দেখা যায়। প্রচারণার চতুর্থদিনে তিনি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে জনসমাবেশ করেন।
অপরাধ ও দুর্নীতি: সাবেক এমপি রুবিনা ও তার স্বামীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ
রাজনীতি: দেড় দশকে সর্বনিম্ন নারী প্রার্থী
শোক ও স্মরন: সাংবাদিক প্রশান্ত ঘোষাল মারা গেছেন
অপরাধ ও দুর্নীতি: অভিনেত্রী ঊর্মিলাসহ তিনজনের সম্পদের হিসাব চায় দুদক