আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, বরং ভোট দেয়ার পর কেন্দ্রে অবস্থান করে নিজেদের ভোটের হিসাব কড়ায়-গ-ায় বুঝে নিতে হবে।
সোমবার, (২৬ জানুয়ারী ২০২৬) নোয়াখালীর হাতিয়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাতিয়া (নোয়াখালী-৬) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাহাবুবের রহমান শামীম।
ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোট দিয়ে চলে এলে চলবে না। ভোট দিয়ে ওখানে থাকতে হবে। যাতে করে আপনার যে ভোটটা আপনি দিলেন, এই ভোটের হিসাব কড়ায়-গ-ায় বুঝে আনতে হবে।’ জনগণ এটি পারবে কিনা সেই প্রশ্ন রেখে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তারেক।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে মানুষের ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। যারা এ কাজ করেছিল তারা দেশ থেকে চলে গেলেও, অন্য একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখতে তিনি ভোটারদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।
ভোটের দিন করণীয় সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখে মুসলমান ভাইয়েরা তাহাজ্জুদ পড়ে ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাতে আদায় করবেন। তিনি অন্য ধর্মের ভাইবোনদেরও সঙ্গে নিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে সবাই সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।
সমাবেশে স্থানীয় এক ব্যক্তি হাতিয়ার নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরেন। জবাবে তারেক রহমান জানান, হাতিয়াবাসীর সমস্যাগুলো একটি কাগজে লিখে রাখা হয়েছে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে নদীভাঙন রোধে ব্লক-বাঁধ নির্মাণ, খাসজমি বন্দোবস্ত ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
এছাড়া তিনি বিএনপির রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।