ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর হামলা, ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ বললেন হাসনাত

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আবিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনা জানার পর আবিদকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছি, আমরা সবাইকে নিয়ে সহাবস্থানে বিশ্বাস করি: বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন

সোমবার, (২৬ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার আহমেদ মোল্লাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

সোমবার দুপুরে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ হামলার ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দিদার আহমেদ মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনার পরই দলকে জানিয়েছি। দলের নির্দেশে অভিযুক্ত দিদার মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমি আরিফুল ইসলাম আবিদকে ফোন করে কুশল জানার চেষ্টা করেছি।’ বিএনপির পক্ষ থেকে উস্কানিমূলক কিছু ঘটবে না উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে সহাবস্থানে বিশ্বাস করি।’

এনসিপি প্রার্থীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘ভোট নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য হবে না। প্রয়োজনে আমরা এক স্টেজে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইব। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই ভোট দেবে।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেয়া এক পোস্টে আরিফুল ইসলাম আবিদ লেখেন, ‘খিলক্ষেত থানার ডুমনী নূরপাড়া এরিয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা। আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাব ইনশাআল্লাহ।’

হামলার শিকার এনসিপি প্রার্থী আবিদের অভিযোগ, গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, রিয়াজুল হোসেন ও সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মোহাম্মদ নাহিন ও রানা আহমেদসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন আরিফুল ইসলাম। এ বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ঘটনার পর বিষয়টি জাহাঙ্গীরকে অবগত করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা ঘটবে না। হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র দখলের ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এনসিপির বা ১১ দলীয় জোটের অন্যতম সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আজকের এই হামলা মূলত কেন্দ্র দখলের একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ। এই পরিস্থিতি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তার অভিযোগ, প্রচার কার্যক্রমের ওপর বিএনপির দলীয় পরিচয়ে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটার ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর একটি কৌশল।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» একাত্তরই বাংলাদেশের অস্তিত্ব, একাত্তরকে মাথায় তুলে রাখতে চাই: মির্জা ফখরুল

» ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেব না: শফিকুর রহমান

» বিএনপির ২৯২ প্রার্থীর মধ্যে ৮৫ জন সাবেক এমপি ও ২৩৭ জন স্নাতক

সম্প্রতি