“আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ আর ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই আমি আমার টিমকে বলি যে, আমি পোস্টার টানাবো না, উচ্চ শব্দে মাইকিংও করব না। “ ভোটের প্রচারণায় এমন ব্যতিক্রমী মডেল নিয়ে হাজির হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। পোস্টার, উচ্চশব্দের মাইকিং ও শোডাউন ছাড়াই পরিবেশবান্ধব নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. জারা। এজন্য মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।
ভোটের মাঠের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফেসবুক পোস্টে তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম শহরজুড়ে পোস্টারের উৎসব। নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা করেছিল, একার পোস্টার লাগানো নিষেধ। তবে প্রায় সব প্রার্থী নিয়মের তোয়াক্কা না করে শহরটাকে পোস্টার দিয়ে মুড়িয়ে ফেললেন। ’
ডা. তাসনিম জারা তার পোস্টে আরো লেখেন, ‘আমরা ভাবতে থাকি, এসব দাপট দেখানো কাজ না করেও নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়? একদম মূলে গিয়ে চিন্তা করলাম, মানুষ আসলে ভোট দেয় কেন? রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না। বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। ’
ডা. জারা লেখেন, মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে। সেই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন আপনার পরিচিত কেউ ফোন করে বলে, ‘দোস্ত, আমি ওনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার ওনাকে একটা সুযোগ দেই। এই ধরণের আন্তরিক কথোপকথন, হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। ’
‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করে ডা. জারা লেখেন, ‘আমাদের অনেক সমর্থক আছেন যারা হয়তো মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কিন্তু মনে প্রাণে চান রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসুক। তাদের জন্যই আমরা একটা পন্থা বের করার চিন্তা করি। সেখান থেকেই আসে আমাদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এর আইডিয়াটা।’
তবে পোস্টার বা শোডাউন না থাকায় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী সরল প্রশ্ন করেন, পোস্টার না থাকলে মানুষ কীভাবে জানবে ডা. জারা নির্বাচন করছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারে তার নতুন সংযোজন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’। যা এমন একটা মডেল যেখানে স্লোগান বা শোডাউনের বদলে গুরুত্ব পাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার বিশ্বাস, যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ, ভাড়া করা লোকের শোডাউন আর শব্দদূষণ ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন আরও অনেকে। যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু আছে যোগ্যতা।
প্রাথমিক চ্যালেঞ্জের বিষয় উল্লেখ করে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসনের প্রার্থী ডা. জারা পোস্টে লেখেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে বলতেন, ‘মা, আমি এসেছি কারণ আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’ কিংবা, ‘আমার মেয়ে থাকে আমেরিকায়, সে আমাকে ফোন করে বলেছে, বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচারটা দিয়ে এসো। ও না হলে দাঁড়াতেই পারবে না।’
ডা. তাসনিম জারা পোস্টে বলেন, সে সময়ে বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সাথে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেয়া মাইকিং নয়। তবে আস্থার রাজনীতি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না।