আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে কেন্দ্র করে বিরামহীন গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিরামহীনভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রার্থীদের দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ততা লক্ষণীয়।
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে ততই নির্বাচনী উচ্ছ্বাস ভাড়ছে। ভোটারদের মাঝে চলছে নানা ধরনের সমীকরণ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায়, হাট-বাজারে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে জনসভা, পথসভা, পেশাভিত্তিক মতবিনিময় সভাসহ লিফলেট নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীসহ নিজ নিজ দলীয় নেতা-কর্মীরা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাড়া-মহল্লায় গিয়ে গণসংযোগ করেছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে। এ সময় তারা ভোটারদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি প্রথম দিন থেকেই বিরামহীন গণসংযোগ করে যাচ্ছেন, শুরুতেই উপজেলার সরফভাটা মেহেরিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। এর আগে তিনি পারুয়া ও কাটাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ওয়ার্ডে পথসভা করেন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ধানের শীষে ভোট কামনা করেন।
গণমাধ্যমকে দেয়ায় বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষে আমাকে নির্বাচিত করলে রাঙ্গুনিয়ার জনগণেরকে সাথে নিয়ে দুর্নীতি মুক্ত, আধুনিক, মানবিক উপজেলা গড়তে এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ক্রীড়া ও ইসলামী সাংস্কৃতি চর্চাসহ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে কৃষকদের জন্য কৃষি পণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিকরণসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সার্বিক উন্নয়ন করব ইনশাল্লাহ।
একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনেও গত সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
প্রচারণার প্রথম দিনে পোমরা খাঁ মসজিদে নফল নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে প্রচারণা শুরু করেন ডা. রেজাউল করিম। তিনি পোমরা, শান্তিরহাট, ইছাখালী ও ইছাখালী আদর্শ গ্রামে গণসংযোগ করেন। নির্বাচিত হলে রাঙ্গুনিয়ার সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে পিছিয়ে নেই নির্বাচনী প্রচারণায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী আবদুর রহমান মনির। উপজেলার রাজানগর হালিমপুর দরবানির বাড়ির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে ঈগল প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় নামেন তিনি।
অন্যদিকে বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান প্রথম দিন থেকেই পোমরা ভাওয়ানিমিল এলাকায় হযরত মজনু শাহ (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তার মোমবাতি প্রতীকের প্রচারণা শুরু করেন সেই সাথে তার পক্ষে কর্মীরা মাঠে ছিলেন। গণসংযোগে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এছাড়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকায় হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-হারুন।
সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে এবং প্রতিটি জনপদ এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর।