ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার একটি মিলনায়তনে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি তোলেন।
পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ‘মির্জা আব্বাসের বাহিনী’ তার ও তার নেতাকর্মীদের ওপর ‘অতর্কিত হামলা’ চালিয়েছে। তিনি বলেন, “শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তারেক রহমানের কাছে মির্জা আব্বাসের বহিষ্কারের দাবি জানাই। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, দলে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবেন নাকি তাদের বহিষ্কার করবেন। আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে হামলার বিচার দিলাম।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পাটওয়ারী জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছালে কিছু তরুণ তার উদ্দেশে স্লোগান দিতে শুরু করে, যা ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তার ওপর শারীরিক আক্রমণেরও অভিযোগ ওঠে।
হামলার ঘটনার পর পাটওয়ারী ও তার অনুসারীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে ফকিরাপুল মোড়ে পারাবত হোটেলের সামনে অবস্থান নেন।
সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী বলেন, “আমার কাছে কোনও দুর্নীতির টাকা নেই, সন্ত্রাসী টাকাও নেই। এরপরই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। হাবিবুল্লাহ কলেজে যাওয়ার আগেই প্রশ্নফাঁস, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও গভর্নিং বোর্ডের অনিয়মের অভিযোগ শুনেছিলেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং গভর্নিং বোর্ড গঠন করেছেন মির্জা আব্বাস।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের দোয়া করেছিলেন এবং দেশ ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আজ তিনি বেছে থাকলে এসব কর্মকাণ্ড দেখে লজ্জা পেতেন।”
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পাটওয়ারী বলেন, “ভোটে জিতি বা না জিতি, ঢাকা-৮ এলাকায় কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে দেবো না। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জনগণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজন ওই হামলায় ‘নেতৃত্ব দিয়েছেন’, যাদের অনেকেরই এখন ছাত্রত্ব নেই। তার দাবি, পুরো ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি।
পাটওয়ারী নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে আমরা মাঠে থাকব কেন, সেটা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।’
ঢাকা-৮ আসন থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা আব্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীসহ নির্বাচনি জোটের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ-বাণিজ্য: বিশ্ববাজারে সোনার দামে রেকর্ড
অর্থ-বাণিজ্য: ছয় মাসে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ