image
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান -সংবাদ

বাংলাদেশকে জনগণের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবো: তারেক রহমান

শরীফুজ্জামান টিটু, ময়মনসিংহ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবো। আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলতে পারবো। আমরা ঐক্যবদ্ব থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শেষ কথা- ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিবো। কিন্তু ভোট দিলেই কিন্তু দায়িত্ব শেষ হবে না। কেন্দ্র থেকে চলে আসবো না। কেন্দ্রে থেকে রেজাল্ট নিয়ে ঘরে ফিরবো। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী জনসভার লক্ষ্য হচ্ছে আগামী বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করা।

মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষের যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল, যে অধিকারের জন্য অনেক মানুষ গত ১৬ বছর ধরে গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যে অধিকার আদায়ের জন্য গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। সেই অধিকার আপনারা প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আগামী মাসের ১২ তারিখে ভোটের মাধ্যমে। কেন এই ভোটের অধিকার দরকার এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এই ভোটের অধিকার দরকার কারণ, আমরা চাই এই দেশের মালিক জনগণের ইচ্ছামতো যাতে আগামী দিন এই দেশ চলতে পারে সেই ইচ্ছার প্রতিফলন বা বাস্তবায়ন হতে পারে সে জন্যই দরকার ভোটের অধিকার। মানুষের ভোটের অধিকার এজন্য দরকার যাতে মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমি জানি, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর-জামালপুর এ অঞ্চলগুলোতে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। নদী ভাঙনের সমস্যা, কর্মসংস্থানের সমস্যা, বিভিন্নœ জেলা উপজেলাগুলোতে ব্রিজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট-কালভার্ট এগুলোর সমস্যা রয়ে গেছে। যেহেতু বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা নতুন করে করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কারণ ঐ যে বললাম- ভোটের অধিকার ছিল না। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হতো। যেহেতু ভোটের অধিকার ছিল না, যেহেতু দেশে নিশি রাতের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তথাকথিত নির্বাচন, যেহেতু আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুবক সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। এলাকার মা-বোনদের সমস্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। উপজেলা হাসপাতালে বলুন অথবা জেলা হাসপাতালই বলুন না কেন, সঠিকভাবে ওষুধপত্র ও ডাক্তার সরবরাহ করা হয়নি। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশর মানুষ কী চায়? বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক চায়। তার সন্তান যাতে সুশিক্ষা বা সঠিকভাবে শিক্ষা পায়, তার সন্তান সেই শিক্ষা পাক যেই শিক্ষার পরে সন্তান কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। বেকার থাকবে না।

তিনি বলেন, তরুণরা, যুবকরা কী চায় তারা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশের মিল ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা বাণিজ্য হবে, যাতে করে তারা সুন্দরভাবে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি-বাকরি করতে পারবে। মানুষ অসুস্থ হতেই পারে। কিন্তু মানুষ চায় মানুষ অসুস্থ হলে তারা যাতে সময়মতো চিকিৎসা সেবা পায়। মানুষের মৌলিক চাহিদার মাঝে এগুলোই মৌলিক চাহিদা।

ময়মনসিংহের জায়গাগুলোতে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে যদি ময়মনসিংহ দেখি- মাছের পোনা চাষ আরও বড় করা যেত। মাছের পোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- কী করে এই মাছের পোনার বিষয়টিকে শুধু দেশের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশে রপ্তানি করা যায়। যাতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। যাতে করে এই এলাকার মানুষ শুধু একটি নয়, এ রকম আরও প্রতিষ্ঠান তৈরি করার মাধ্যমে আরও মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মেয়েদের জন্য, মা-বোনদের শিক্ষা দেয়ার জন্য মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। সেই মা-বোনরা শিক্ষিত হয়েছেন। আজকে যে কোনো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই আমরা দেখবো ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা সমান সংখ্যাক লেখাপড়া করছে। আজকে আমরা যদি বাংলাদেশের সমস্ত জনসংখ্যা দেখি আমরা দেখবো সমগ্র জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা যদি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তাহলে এত বৃহৎ জনগোষ্ঠী অর্থ্যাৎ অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে আমরা কোনোভাবেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না এবং সেজন্যই আমরা নারীদের জন্য, মায়েদের জন্য, গৃহিণীদের জন্য বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ যারা, সেই পরিবারের গৃহিণীদের জন্য আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই। যাতে করে এ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে। যাতে করে তারা প্রতি মাসে কিছুটা হলে স্বাচ্ছন্দে কয়েকটি দিন অতিবাহিত করতে পারে। একটু হলেও তাদের যাতে সহযোগিতা হয়। ঠিক একইভাবে ময়মনসিংহের মৎস্য চাষি নয়, মৎস্য চাষির বাইরেও যারা খেত-খামারে কাজ করেন, এ রকম কৃষক ভাইদেরও পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। এবং কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা করছি। এ কৃষক কার্ড কেন আমরা দিতে চাচ্ছি- আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই কৃষক যদি ভালো থাকে, কৃষি ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেজন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করতে চাই। এ কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সরাসরি, তার প্রয়োজনীয় অন্তত ১টি ফসলের সামগ্রিকভাবে বীজ, কীটনাশক, সার পৌঁছাতে চাই। যাতে করে সেটি তাদের সহযোগিতা করে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত হওয়ার জন্য দৃঢ় ভিত্তির ওপর তারা দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনীতি করি কাদের জন্য- বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আজকে এই যে নির্বাচনী জনসভা, এতে আমরা কী দেখি। অনেক দল আছে যারা এসে অন্য দল সর্ম্পকে বিভিন্ন রকম কথা বার্তা বলে। আজকে যদি আমি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে অন্য দল সর্ম্পকে অন্য রকম কথা বলি, তাদের গীবত গাই, তাদের সর্ম্পকে সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে- জনগণের কোনো লাভ হবে না। কারণ, জনগণ তাকেই ভোট দিবে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। এবং জনগণের যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা থাকতে হবে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কীভাবে কী কী কাজ করবে জনগণের জন্য। সেই পরিকল্পনাগুলো থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল, যাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী দিনে কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবে। কারণ এই দলটির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। কীভাবে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়। কারণ বিএনপি নামক দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে জেলায় জেলায়, উপজেলায়, গ্রাম পর্যায়ে, ইউনিয়নে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়। বিএনপি নামক দলটির অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে শিক্ষার আলো এদেশের সন্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। বিএনপি নামক দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। বিএনপি নামক দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচারা যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্য, বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন- ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল। তা বিএনপি যদি এতই খারাপ হয় তাহলে ঐ দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এজন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারের ছিল, তারা ভালো করেই জানতো, যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে, তারা ভালো করেই জানতেন, যে খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করলো। যে দল এইভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করে তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সর্ম্পকে কত বড় মিথ্যা কথা তারা বলছে।

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সমস্যা আছে। আমরা এ মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে আমাদের সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকরি-বাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমবেশি থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমরা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করবো। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদের যুব সমাজের সদস্যদের, আমরা বিভিন্নরকম ট্রেনিং দিবো। যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে, তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে তারা দেশের মধ্যে তারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি। যারা আইটিতে কাজ করেন, তারা ঘরে তাদের আয় রোজগার বাড়াতে পারেন।’

তিনি বলেন, এই চার জেলার আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে, জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বড় করতে চাই, একইভাবে হেলথ্ কেয়ারের অ্যাপয়েন্ট করতে চাই। শিশুরা এবং মা-বোনেরা চিকিৎসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারে না। আমরা চাই, তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সেজন্যই আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘরের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এ ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম কৃষি প্রধান জেলা। আমাদের এখানে অনেক খাল বিল ছিল। এ খাল-বিলগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ খাল-বিলগুলো আমরা পুনঃখনন করতে চাই। এ খাল খনন করার জন্য যারা কোদাল হাতে নিবেন আমি সেদিন আপনাদের সঙ্গে থাকবো। তিনি বলেন, যে কথাগুলো বললাম- যদি এই কাজগুলো আমরা কমবেশি করতে সক্ষম হই, ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে (আগামী) আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই যে কথাগুলো বললাম, এই কাজগুলো যদি করা হয়, তাহলে আপনারাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে তা সংক্ষেপে বললাম। বিএনপি আরও অনেক কিছু করবে। তবে এর আগে ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম ৪ জেলার উন্নয়নের জন্য। এদের জিতিয়ে আনতে পারলে দেশের উন্নয়ন করতে পারবো।

তিনি বলেন, সমাজে বিভিন্নœ মসজিদ-মাদ্রাসায় ইমাম, মোয়াজ্জিন সাহেবরা আছেন। আমরা এই সম্মানিত মানুষগুলোর জন্য বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানি দিতে চাই। যাতে করে উনারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। একইসঙ্গে আমরা তাদের বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দিবো। যাতে করে তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, ঐদিন আপনারা তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারাদেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। অন্যান্য ধর্মের ভাইয়রা ভোরবেলায় তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন। এরপর মুসলমান ভাইয়রা ফজরের নামায পড়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন। ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে চলবে না, কেন্দ্রে থাকতে হবে। কড়ায়-গণ্ডায় ভোট বুঝে নিতে হবে।

তিনি বলেন, কেন এই কথা বললাম। কারণ অনেক বছর হয়ে গেছে, আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে আমাদের ভোট বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জন লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এবার সেই জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করে নিয়ে যেতে না পারে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে অনেক মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশেরই ছাত্র জনতাসহ সমাজের সব শ্রেণীপেশার লোকজন।

তিনি বলেন, সেই ’৭১ সালের যুদ্ধই হউক আর ’২৪-এর আন্দোলনই হউক, কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে নৃগোষ্ঠীর মানুষ, অথবা কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে। ’৭১ সালে যুদ্ধের মাঠে সবাই এক সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। কে কোন ধর্মের মানুষ কেউ দেখেনি। কাজেই এই ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের এক সঙ্গে থাকতে হবে। তাহলেই আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেভাবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ কথার সার্থকতা হবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুল আলম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, দুর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল ইসলাম, জামালপুর সরিষাবাড়ি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল আলম তালুকদার, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদুল হক রুবেল, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ বাবু, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেত্রকোনার আটপাড়া আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হেলালী, নেত্রকোনা সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৬ (নান্দাইল) ইয়াছের খান, নেত্রকোনা পূর্বধলা আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. তানসিলা প্রিয়াঙ্কা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক বেগম নিলুফার চৌধুরী মনি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফা আহমেদ পিংকি, চৌধুরী আব্দুল্লাহ হেল বাকী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক একেএম মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শামীম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহিদুল আলম খসরু প্রমুখ।

এর আগে সকাল থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ২৪টি সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ডাক-ঢোল পিটিয়ে দলে দলে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোট্রেট নিয়ে সার্কিট হাউজ মাঠে যোগ দেন। ২২ বছর পর প্রিয় নেতার আগমনকে ঘিরে বিকেল ৩টায় তারেক রহমান জনসভাস্থল পৌঁছার আগেই অর্ধেক মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের কারণে অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক আশ্রয় নেয় আশপাশের সড়ক ও জয়নুল আবেদীন পার্কের গাছের ছায়ায়। এদিকে তারেক রহমান দুপুর আড়াইটায় সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভায় যোগদানের কথা থাকলেও উৎসুক জনতার ভিড় সামলিয়ে মঞ্চে উঠেন বিকেল ৪টায়।

সভাস্থল পৌঁছে প্রথমেই তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মঞ্চে উঠেন। এ সময় মুর্হুমুহু করতালি ও স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল। পরে প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত চেয়ার সরিয়ে সাধরণ চেয়ারে বসেন।

ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ সীমান্তের ভালুকা পৌঁছতেই শুরু হয় উপচেপড়া ভিড়। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দুপুর দুপুর ১২টা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় উৎসুক জনতা রাস্তার দুধারে দাড়িয়ে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে তারেক রহমান চার জেলার ২৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সবাইকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া দেশের জন্য চরম অপমান: ডা. শফিকুর রহমান

» চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

» ‘আব্বাসের নির্দেশে ও তারেকের সম্মতিতে’ পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগ নাহিদের

সম্প্রতি