‘আব্বাসের নির্দেশে ও তারেকের সম্মতিতে’ পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগ নাহিদের

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ‘হামলার ঘটনায়’ দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন। নাহিদ বলেছেন, মির্জা আব্বাসের ‘নির্দেশে’ এবং তারেক রহমানের ‘সম্মতিতেই’ এই হামলা হয়েছে। তবে ‘হামলার শিকার’ পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসের বাহিনীকে দায়ী করেছেন। পাটওয়ারী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মির্জা আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কার করার।

মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবে গিয়ে ‘হামলার শিকার’ হন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক এবং ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পাটওয়ারী ছিলেন ওই উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি। তিনি সেখানে পৌঁছালে কিছু তরুণ তাকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেয়। এরপর ধাক্কাধাক্কিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ সময় পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোঁড়া হয়, শারীরিক আক্রমণেরও অভিযোগ পাওয়া যায়, এই আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন তাকে তার নির্বাচনী এলাকায় (পুরানা পল্টন) গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহের মাথায় তিনি মারা যান।

এরপর এই আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করে এনসিপি। তিনি এখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী। মঙ্গলবার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ‘হামলার ঘটনার’ পর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে ফকিরাপুল মোড়ে যান পাটওয়ারী। নেতাকর্মী অনুসারীদের নিয়ে তিনি পারাবত হোটেলের সামনে অবস্থান নেন। এরপর দুপুরে ফকিরাপুল এলাকায় একটি মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা, যেখানে জামায়াত ইসলামীসহ নির্বাচনী জোটের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ও তারেক রহমানের সম্মতিতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। আমরা মির্জা আব্বাসের ইতিহাস জানি। মির্জা আব্বাসকে ডেকে একটা হুন্ডা আর ৩০ টাকা দিয়ে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, আমার সঙ্গে রাজনীতি করো, নির্বাচনে কাজ করো। সেখান থেকেই তার রাজনীতির যাত্রা শুরু। বিএনপির রাজনীতি করেই ঢাকা শহরে সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন মির্জা আব্বাস। সেই সাম্রাজ্য কীভাবে হয়েছে সেটা দেশের মানুষ জানে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরই তাদের উচিত ছিল দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানে হাসিনাকে হটিয়েছি, আর মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবো না? এসব ভয়ভীতি দিয়ে আমাদের আটকানো যাবে? এমনটি ভাবলে ভুল হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে মির্জা আব্বাসের বাহিনী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তারেক রহমানের কাছে মির্জা আব্বাসের বহিষ্কারের দাবি জানাই।’ তবে হামলার ঘটনা বিচারের ভার পাটওয়ারী ছেড়েছেন পুরো বাংলাদেশের ওপরে। তিনি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, দলে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবেন, নাকি তাদের বহিষ্কার করবেন। আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে হামলার বিচার দিলাম।’

সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী বলেন, ‘আমার কাছে কোনো দুর্নীতির টাকা নেই, সন্ত্রাসী টাকাও নেই। এরপরই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। হাবিবুল্লাহ কলেজে যাওয়ার আগেই প্রশ্নফাঁস, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও গভর্নিং বোর্ডের অনিয়মের অভিযোগ শুনেছিলেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং গভর্নিং বোর্ড গঠন করেছেন মির্জা আব্বাস।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের দোয়া করেছিলেন এবং দেশ ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আজ তিনি বেঁচে থাকলে এসব কর্মকা- দেখে লজ্জা পেতেন।’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ভোটে জিতি বা না জিতি, ঢাকা-৮ এলাকায় কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে দেবো না। ১২ ফেব্রুয়ারির (আগামী) ভোটে জনগণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে।’

পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজন হাবিবুল্লাহ কলেজে হামলায় ‘নেতৃত্ব দিয়েছেন’, যাদের অনেকেরই এখন ছাত্রত্ব নেই। তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে’ আমরা মাঠে থাকবো কেন, সেটা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।’

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে এনসিপি প্রধান নাহিদ বলেন, ‘তাদের অতীত কিন্তু দেশের মানুষ ভোলেনি। ২০০১-২০০৬ সালে তারা দুঃশাসন চালিয়েছিল। তাদের এমন আচরণ চলতে থাকলে আমরা অতীত নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘আগে যা করেছেন, করছেন। তবে পরিবর্তন না হলে কিন্তু এবারের নির্বাচনে ভালো হবে না।’ মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিগত ১৬ বছর ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে’ রাজনীতি করেছেন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘তারা তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাই তারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে নামেননি। অথচ ছাত্রদল ও যুবদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। তাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা আমাদের সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছেন।’

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া দেশের জন্য চরম অপমান: ডা. শফিকুর রহমান

» চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

সম্প্রতি