চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিছি, এটিও আমার দোষ। এটি নাকি আমি হুমকি দিয়েছি। আমি তাদের কথায় ভীত। কোথায় কি হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের। গণসংযোগকালে আক্রান্ত হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ঢাকা ৮ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী যে অভিযোগ তুলেছেন তা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মির্জা আব্বাস। জনগণের সহানুভূতি পেতে ও সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ওরা মিথ্যা কথা বলছে। এটি কেবল সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি, আজ পর্যন্ত বিএনপির সমর্থকরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে, এমন কোনো রেকর্ড নেই।’

মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুর মালিবাগ ১ম লেন থেকে মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি ১১নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহর জুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। যে যত কথাই বলুক আমি তাদের ফাঁদে পা দিব না। আমার ভোট আমি চাইবো, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কি করেছো, আর কি করবে বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।’

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। যখন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তখন হাত উচিয়ে এ এলাকার মানুষ সমর্থন দিতেন। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য প্রার্থী কি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? আপনাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু আমি যা পারবো না তা কখনও আশ্বাস দেইনি। মিথ্যা আশ্বাস আমি দেই না। আমি ফেরেস্তা না। তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।

তিনি বলেন, কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কি? আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম তখনও আমার বাসায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকার মানুষ গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছে। আজকে লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন! এলাকার কতজনের জানাযায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন? আবার বলেন আমার এলাকা!

মির্জা আব্বাস বলেন, একজন বলছে চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে চাঁদাবাজিতো আপনারা করছেন। চাঁদাবাজি তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না! যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।

তিনি বলেন, ‘ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ।’ দেশে এখন থেকেই অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে অভিযোগ করেন তিনি।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া দেশের জন্য চরম অপমান: ডা. শফিকুর রহমান

» ‘আব্বাসের নির্দেশে ও তারেকের সম্মতিতে’ পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগ নাহিদের

সম্প্রতি