বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসনের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘বাধা ও হুমকি’ দিচ্ছেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বগুড়ায় প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইকালে ‘মব’ তৈরি করে প্রার্থিতা বাতিলও করা হয়।
বগুড়া প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর (মীর শাহে আলম) এসব অভিযোগ করেছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী হতে চাওয়া মান্না। তার অভিযোগ, সেই প্রার্থীর (শাহে আলম) লোকজনই তার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। মহিলারা প্রচারে বের হলে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা ভয়ে প্রচারণায় বের হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি প্রার্থীর প্রতি অভিযোগ তুলে মান্না বলেন, শুরুতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার বিষয় ছিল। তারা আমাকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণাও করেছিল। কিন্তু তারা আবার আরেকজনকে (মীর শাহে আলম) মনোনয়ন দিল। প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এখন সেই প্রার্থীর লোকজনই আমার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মান্না। প্রথমে তাকে জোটের প্রার্থী করার জন্য বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। তবে পরে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মীর শাহে আলম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন তিনি। মান্না কেটলি প্রতীক নিয়ে ব্গুড়ার এ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মান্না বলেন, ঋণ খেলাপি থেকে শুরু করে সবকিছুই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী করেছেন। অথচ একই কাগজপত্রে ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থীতা বৈধ হয়েছে। তাহলে বুঝুন এখানে কী করা হয়েছে। অগাস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থেকে শিবগঞ্জ মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে। যারাই আমার হয়ে কাজ করেছে তাদের হুমকি ও মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
এমন অবস্থায় সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, “সুষ্টু নির্বাচনের আশা করি। এই অবস্থা দেখে এখনি কিছু বলা যাবে না। তবে অবশ্যই প্রশাসনকে এবিষয়ে নজর দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মান্নার ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না, নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়ক রাজিয়া সুলতানা ইভা, সদস্য মশিউর রহমান পিয়াল, নাগরিক পার্টি শিবগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকার।
মান্নার অভিযোগের বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাবের ভাষ্য, মান্না জামানত হারাবেন বলে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রচারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে থানা পুলিশ কিছু জানে না। কেউ অভিযোগও করেনি।
অপরাধ ও দুর্নীতি: টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চক্রের আরও দুইজন গ্রেপ্তার