১৯ বছর পর রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও পদ্মাপাড়ের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই দশকের বিচ্ছেদ শেষে প্রিয় নেতার এই আগমনকে ঘিরে বরেন্দ্রভূমি রাজশাহীতে বইছে উৎসবের আমেজ। শহরজুড়ে চলছে সাজসাজ রব।

এই সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ নির্বাসিত নেতার সঙ্গে জনপদের এক আবেগঘন মিলনমেলা। ১৯ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচনি জনসভার মাঠ প্রস্তুতসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন রাজশাহী জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতারা। স্থানীয় নেতাদের আশা, এই জনসভায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।

আজ দুপুরে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছাবেন। এরপর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। সেখানে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।

এদিন বিকেলে তিনি নওগাঁয় আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন। নওগাঁর জনসভা শেষে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথিমধ্যে দুপচাঁচিয়া ও কাহালুতে পথসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর রাত ৮টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বগুড়াবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষে সেখানে তিনি রাত্রিযাপন করবেন।

বগুড়ায় অবস্থানকালে তিনি বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। এরপর অগামীকাল সকালে বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর ও সাবগ্রামসহ তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

এদিন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পৃথক পৃথক পথসভা করবেন। পথসভা শেষে তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী পিতৃভূমিতে যাবেন। পরদিন সকালে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক হয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাজশাহীর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যানের এই সফরকে ঘিরে তারা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছেন। সফরকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জনসভা উপলক্ষে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৪ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি জনসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছি। আশা করছি সেদিন উপজেলা থেকে অন্তত ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে রাজশাহীতে উপস্থিত হব।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন উর রশিদ বলেন, ‘জনসভা সফল করতে পাড়া-মহল্লায় সভা করছি। একই সঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা চলছে। মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানাকে সকাল ১১টার মধ্যে মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছিÑ মহানগর থেকে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। এর সঙ্গে গণসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন।’

এদিকে, তারেক রহমানের জনসভা উপলক্ষে পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শুধু মাঠেই প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে আরও অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হবে।’

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে উচ্চ ব্যয়ের বরাদ্দ সন্দেহজনক, নতুন সরকারকে বিপদে ফেলবে: গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

সম্প্রতি