নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের চুক্তি করার মাধ্যমে সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা। তার অভিযোগ, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বদলে বিদেশিদের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ষোলশহর রেল স্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম-১০ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত বাসদ-মার্কসবাদীর প্রার্থী আসমা আক্তারের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বিদেশি কোম্পানির হাতে এনসিটি ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার আবার আলোচনায় এসেছে। সেদিন এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে চুক্তিটি নিয়ে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে ভাষ্য আইনজীবীদের। একই দিন সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শনি ও রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে আট ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তার আগে এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকার এগিয়ে নেওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দল, বিভিন্ন বাম সংগঠন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে এরইমধ্যে। নির্বাচনি জনসভায় বাসদ-মার্কসবাদীর নেতা মাসুদ রানা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ মুহূর্তে একমাত্র কাজ ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিযন্ত্রণ করে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কা দূর করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অথচ এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। “এ কাজে পুরো মনোযোগ না দিয়ে সরকার নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনোযোগের সুযোগ নিয়ে বিদেশের সাথে একের পর এক চুক্তি করছে। যার ন্যূনতম কোনো জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নেই।”
তার অভিযোগ, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে লিজ চুক্তি প্রক্রিয়া সমস্ত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে গোপনে অগ্রসর করা হচ্ছে। মাসুদ রানা বলেন, “অথচ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরণের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি করার অধিকার নেই।”
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেছে। তারা কর্মবিরতি আহবান করেছে। নির্বাচনের আগে বন্দর লিজের চুক্তি করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। এটা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিতে চাই, অবিলম্বে বন্দর লিজ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসুন। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দিন।”
জনসভায় আসমা আক্তার ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “মার্কা দেখে নয়, দল ও প্রার্থীর নীতি-আদর্শ বিচার করে ভোট দিন। যারা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, ভোট নিতে ধর্মের ব্যবহার করে, ধনীদের স্বার্থ দেখে-তাদের ভোট দিলে তারা হয়তো জিতবে, কিন্তু আপনি কি জিতবেন?”
আসমা আক্তারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাসদ-মার্কসবাদীর চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম-৯ আসনে দলের প্রার্থী শফি উদ্দিন কবির আবিদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব নীতিশ দাশ, সিদ্দিক মিঞা ও আয়েশা আক্তার সুমি। সমাবেশ পরিচালনা করেন দলের জেলা কমিটির সদস্য রিপা মজুমদার।
নগর-মহানগর: বনানীতে আবাসিক ভবনে আগুন